পাতা:প্রসূতি-তন্ত্র.djvu/২৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

দ্বিতীয় অধ্যায় দ্বিরাগমন ও তাকাল-গর্ভাধান-দোষ । বিবাহের পর স্বামিভবনে কন্যার দ্বিতীয়বার আগমনের নাম দ্বিরাগমন । অতি প্রাচীন কালে অর্থাৎ বৈদিক সময়ে দ্বিরাগমনের কোনও উল্লেখ দেখাযায় না । যেহেতু, তখন বাল্য বিবাহ প্রচলিত ছিল না । কস্তার বিবাহ যোগ্য বয়সে পরিণয় ক্রিয়া সম্পাদিত হইত। তাহার পরবর্তী কালে, যখন অল্পবয়সে বিবাহ দিয়া লোকে গৌরীদানের পুণ্যলাভ করিতে লাগিল। তখন হইতেই বোধ হয় দ্বিরাগমনের স্ত্রপাত হয়। কেন না, অল্পবয়সে বিবাহ দেওয়া তখনকার কালে যুক্তিযুক্ত হইলেও অকালে স্বামী স্ত্রীর মিলন বাঞ্ছনীয় ছিল না। সেজন্য র্তাহারা বিবাহের অব্যবহিত পরেই কন্যাকে শ্বশুরুভবনে পঠাইয়া দিতেন না । কন্যা পিতৃগৃহেই বাস করিত। তারপর যখন তাহার বয়স যৌবন-সীমায় উপনীত হইত অর্থাৎ কন্যা গর্ভধানযোগ্য হুইত, তখন তাহাকে শুভদিনে সবিশেষ উৎসব সহকারে স্বামীর নিকট পাঠাইয়া দেওয়া হইত। কাজেই, স্বামী স্ত্রীর অসময়ে মিলন জন্য যে বিষময় ফল ফলিয়া থাকে, তাহ আর হইবার সম্ভাবনা থাকিত না । বাস্তবিকই দ্বিরাগমনের যদি এইরূপ উদ্দেশ্য হয়, তাহা হইলে এ প্রথা অতীব সুন্দর। কিন্তু বর্তমান সময়ের দ্বিরাগমন প্রথা অন্যরূপ। এখন বিবাহের অব্যবহিত পরেই দিরাগমন কাৰ্য্য সম্পাদিত হইয়া থাকে। কন্যার বয়স অথবা শারীরিক অবস্থা প্রভূতি বিষয়ে কোনও লক্ষ্যরাখা হয় না।