পাতা:বক্সা ক্যাম্প.djvu/১০১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

আনি নাই, তেমন ক্ষুদ্র-শক্তি ব্যক্তিকেও সংসারে বৃহৎ ভূমিকা গ্রহণ করিতে দেখিয়াছি। পঙ্গুকে দিয়া গিরি লঙ্ঘন, বোবাকে মুখর করিয়া তোলা ইত্যাদির কথা আমি বলিতেছি না। আমার বক্তব্য যে, যার কাছে সকলেই আশা করে, সে ব্যর্থ হইয়া যায়। অথচ, যাকে দেখিয়া কোন আশাই জাগ্রত হয় না, সে-ই একদিন বহুর আশা তৃপ্ত করিতে আগাইয়া আসে। এর উত্তর খুঁজিতে গিয়া ইহাই আমার অবশেষে মনে হইয়াছে, শক্তি পাইলেই হয় না, তার ব্যবহার ও প্রয়োগ জানা চাই। ঠিক বুঝাইতে হয়ত পারিতেছি না। আমি বলিতে চাই, মানুষের সার্থকতা বা জীবনক্ষেত্রে সিদ্ধির জন্য বিধিদত্ত শক্তিই যথেষ্ট নহে, সাধনা ব্যতীত সর্বশক্তিই বন্ধ্যা হইয়া যায়। আবার সাধনার সাহায্যে ক্ষুদ্রশক্তিও বৃহৎ সিদ্ধিতে ফলবান হইয়া উঠে—ক্ষুদ্র স্ফুলিঙ্গ যেমন বাতাসের আনুকূল্যে খাণ্ডবগ্রাসী দাবাগ্নিতে পরিণত হয়।

 মোট কথা, আমরা প্রত্যেকেই বড় হইতে পারি, নিজ নিজ জীবনে সার্থক হইতে পারি, যদি আমরা একটু ঐকান্তিক নিষ্ঠা লইয়া চেষ্টা করি। আমরা চেষ্টা করি না, তাই সবই অসাধ্য ও অসম্ভব থাকিয়া যায়, যার শক্তি আছে, তারও সে-শক্তিতে মরিচা পড়িয়া যায়।

 একটা বিষয়ে প্রভুর মানে রুণুবাবুর দান আমাদের বক্সা-জীবনে এতখানি ছিল, যার জন্য আজও আমরা অনেকে তাঁর নিকট মনে মনে কৃতজ্ঞতা বোধ করিয়া থাকি। প্রধানতঃ তাঁর চেষ্টা ও তাগিদেই আমরা খেলার মাঠটি ভোগদখলে পাইয়াছিলাম, তাই আমরা বাঁচিয়া গিয়াছিলাম। এ যে কি প্রাপ্তি, বন্দী ব্যতীত অপরের পক্ষে বুঝা সম্ভব নহে।

 খেলার মাঠ পাইয়াছিলাম। তাই আমরা বাঁচিয়া গিয়াছিলাম। আমার ধারণা খেলার মাঠে প্রচুর ঘর্ম ও শক্তি ব্যয় করিবার সুযোগ পাইয়াছিলাম বলিয়াই আমাদের রক্তের স্বাভাবিক ছন্দ রক্ষিত হইতে পারিয়াছিল এবং শরীরে ও মনে আমরা সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকিতে পারিয়াছিলাম। নতুবা আমাদের মধ্যে অর্ধেকেরই বেশী ভগ্নস্বাস্থ্য ও অসুস্থ

৯২