পাতা:বক্সা ক্যাম্প.djvu/১০৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

মানে পার্টনারশিপ প্রতিষ্ঠিত হইল। মাঠে স্বত্ব-স্বামিত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য রুণুবাবু আদা-জল খাইয়া লাগিয়াছিলেন, সামনে ছিলেন ভূপতিদা ও ক্ষিতীশবাবু অবশেষে একটা রফার আমরা উপনীত হইলাম।

 প্রথম বন্দোবস্ত হইল যে, মাঠটি আমাদের জন্য চার দফায় খেলা হইবে আধ ঘণ্টা করিয়া। প্রত্যেক দফায় চব্বিশ জন লোক মাঠে যাইবার ছাড়পত্র পাইবে, বাইশজন খেলোয়াড়, একজন রেফারী এবং একজন দর্শক, মোট সখ্যা চব্বিশই হয়। আমরা সম্মত হইয়া গেলাম।

 সম্মত হইবার কারণ এই যে, ছুঁচ হইয়া ঢুকিলে ফাল হইয়া বাহির হইবার কথাটায় আমাদের যথেষ্ট আস্থা ছিল। তা ছাড়া, ফিনীব্যাটা রাজবন্দী কি চীজ না বুঝিয়া আমাদের মাঠে ছাড়িতে সাহস পাইতেছে না। এক দুর্গের দিকটা বাদ দিয়া মাঠের অপর তিন দিকে শুধু তারকাঁটার বেড়া, কে জানে যদি দলবদ্ধভাবে আমরা পালাইবার চেষ্টা করি। অবশ্য এই কাঁটার বেড়া এমনই মজবুত ও ঘন করিয়া তৈরী যে, পলায়ন সম্ভব ছিল না। তবু সাবধানের মার নাই, এই বুদ্ধিকে বুড়ীর মত ফিনী সাহেব ছুঁইয়া রহিলেন। যদি প্রমাণ হয় যে, খেলার মাঠে আমরা খেলিতেই যাই, তাহা হইলে সকালে ও বিকালে দুই বেলা আমাদের জন্য সপ্তাহে চারদিন সাহেব মাঠ খোলা রাখিবেন, বাকী তিন দিন মাঠ থাকিবে সিপাহীদের দখলে ও ব্যবহারে। পরে সপ্তাহে একদিন বাদ দিয়া ছয়দিনই মাঠ আমাদের ব্যবহারের জন্য ছাড়িয়া দিতে ফিনী সাহেব বাধ্য হইয়াছিলেন।

 এই মাঠে কি খেলাই আমরা খেলিয়াছি, মনে পড়িলে রোমহর্ষণ হয়। নিজের কথা মনে আছে, চার দফায় চারবারই মাঠে গিয়া হকি খেলিরাছি, দুপুরের আগে দুবার, দুপুরে একবার, আর বিকালে একবার। সুদক্ষ সেনাপতির ন্যায় ‘প্রভু’ হেড কোয়ার্টারে থাকিতেন না, প্রত্যেকবারই পূরোভাগে থাকিয়া প্রত্যেক ব্যারাক হইতে রিক্রুট সংগ্রহ করিয়া বাহিনী প্রস্তুত করিয়া লইয়া বাহির হইতেন। খেদাইয়া জড় করিবার কাজ যদি রুনুবাবু নিজে হাতে না নিতেন,

৯৪