পাতা:বক্সা ক্যাম্প.djvu/১০৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

তবে চার দফার তিন দফাতেই মাঠ খেলোয়াড়শূন্য থাকিত, এক বিকালের দিক ছাড়া। কালটা ছিল শীত, ইহা স্মরণ রাখিবেন, তাও আবার পাহাড়ী শীত।

 হকি খেলাতে প্রভু সত্যই ওস্তাদ ছিলেন; আমাদের কাছে তিনিই ছিলেন ধ্যানচাঁদ। তাঁর তত্ত্বাবধানে প্রথম কয়েক সপ্তাহ আমরা যত না বল পিটাইয়াছি, তার হাজারগুণ অধিক পিঠাইয়াছি একে অপরের ঠ্যাং। বল মার খাইয়াও মড়ার মত চুপ করিয়া থাকিতে পারিত, কিন্তু হকি-স্টীকের বাড়ি খাইয়া ঠ্যাং হইতে রক্ত ঝরিতে থাকিলে চুপ করিয়া থাকা আমাদের পক্ষে সত্যই কষ্টকর হইত, তখন খেলাটা যা জমিত, ভাবিতে আবার রোমহর্ষণ হয়।

 কয়েকজন খেলোয়াড়ের টাইমিং এমন নিখুঁত ছিল যে, প্রত্যেকবারই বল তাক করিয়া কার্যকালে স্বপক্ষ বা বিপক্ষের ঠ্যাংয়ে মারিয়া বসিত। প্রভু তাঁর শিক্ষার এমন চমৎকার ফল দেখিয়া সানন্দে উৎসাহ দিতেন, “সাবাস কেষ্টবাবু, এমন হাত যশ বড় দেখা যায় না, লক্ষ্যভেদে অর্জুনকেও কাঁদিয়ে ছাড়লেন।”

 কেষ্টবাবু জবাব দিতেন, “প্রত্যেকবারই দেখছি কেউ না কেউ ঠ্যাং বাড়িয়ে দেবে, বল আর মারা হয় না।”

 একদিন ফিনী সাহেবকে গিয়া রুণুবাবু বলিলেন—“সাহেব, তোমার সিপাই টীমের সঙ্গে আমরা হকি-ম্যাচ খেলতে চাই।” প্রস্তাবে সাহেব প্রথমটা উৎসাহিত হইয়া উঠিলেন, “আচ্ছা, এ খুব ভাল প্রস্তাব।” সাহেব নিজেও খেলোয়াড় ছিলেন।

 দুদিন সাহেব আমাদের খেলা দেখিলেন, তারপর রুণুবাবুকে ডাকাইয়া পাঠাইলেন। বলিলেন, “ম্যাচ খেলার প্রস্তাবটা বাতিল করতে হোল?”

 —“কেন?”

 —“ফল ভালো হবে না। তা ছাড়া, উপর থেকে অনুমতি পাওয়া যাবে না।”

 কথাটা যুক্তিযুক্ত। প্রভু ভাবিত হইলেন, কি উপায়ে ব্যাটাকে সম্মত করা যায়।

৯৫