পাতা:বক্সা ক্যাম্প.djvu/১৪৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

বাবত অনুশীলন-পার্টির মুখপাত্ররূপে পরিচিত। রাজনীতি ব্যতীত জীবনে প্রতুলবাবুর যে অন্য কোন আকর্ষণ আছে, তাহা আমার মনে হয় নাই। অবশ্য দুপুরে পাশার আসরে তিনি অবতীর্ণ হইতেন। অনুশীলন পার্টির নেতৃবর্গের মধ্যে জনসাধারেণের নিকট প্রতুলবাবুব নামই সমধিক পরিচিত। প্রতুলবাবুকে কখনও উত্তেজিত হইতে দেখিয়াছি বলিয়া স্মরণ হয় না। বুদ্ধিমান ব্যক্তি বলিয়া বিপ্লবীমহলে প্রতুলবাবুর প্রসিদ্ধি আছে। আমার ধারণা, দল গঠনে ইঁহার স্বাভাবিক নৈপুণ্য রহিয়াছে।

 প্রতুলবাবুর পাশেই চশমা চোখে যে ভদ্রলোককে দেখিতেছেন, ইনিই অরুণবাবু (গুহ)। ইঁহার নামের সঙ্গে আর একটি নাম অবশ্যই যুক্ত হইবে —তিনি হইলেন ভূপেন দত্ত, ঐ কিছুদূরে যিনি জীবনবাবুর (চ্যাটার্জি)। পাশে দাঁড়াইয়া আছেন। অরুণবাবু ও ভূপেনবাবু দুই বন্ধু। এই বন্ধুত্ব অবিচ্ছেদ্য বলিয়াই সকলে মনে করে। অরুণবাবু বয়সে বড় এবং প্রকৃতিতে দুই বন্ধুর খুব সাদৃশ্য আছে বলিয়া আমার মনে হয় নাই। অরুণবাবুর মুখে আমি হাসি দেখি নাই, আর ভূপেনবাবুর মধে মৃদু সুন্দর হাসি সর্বদাই লাগিয়া থাকিত। অরুণবাবুকে লোকে এড়াইয়া চলিত, ভূপেনবাবুর পাশে লোক আপনা হইতেই আগাইয়া যাইত। দলের বাহিরের লোকের সঙ্গে অরুণবাবু তেমন মেলামেশা করেন না। পার্টির লোকের সমস্ত রকম সুবিধা-অসুবিধার খবর ইনি তন্ন তন্ন করিয়া লইতেন। পাটিই অরুণবাবুর ধ্যান ও জ্ঞান। পার্টির স্বার্থ ও সুনাম উনি যেন যক্ষের মত পাহারা দিতেছেন, এমনই মনে হহত। বাহিরের লোকের কাছে এঁর হৃদয়ের পরিচয় কিছু নাই, কিন্তু পার্টির লোকের নিকট এঁর হৃদয় অবারিত। অরুণবাবুর প্রকৃতির লোকের হাতেই পার্টির ক্ষমতা স্বাভাবিক নিয়মে গিয়া ন্যস্ত হইয়া থাকে। সুযোগ পাইলে অরুণবাবু যে ভবিষ্যতে একজন ক্ষমতাশালী ব্যক্তি হইবেন, এই বিষয়ে আমার মনে কোন সন্দেহ নাই। ইনি যুগান্তর পার্টির অন্যতম নায়ক।

১৩৭