পাতা:বক্সা ক্যাম্প.djvu/১৭৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

দিয়াছিল, এই দলের কতিপয় বিশিষ্ট ব্যক্তি ইহাকে বিশেষ একটি বাস্তব মূর্তি দিবার জন্য ব্যস্ত ও কর্মতৎপর হইলেন।

 একদিন আমার ডাক পড়িল। কম্বলের ঘর হইতে বারান্দায় বাহির হইয়া বিষ্ণুর (চ্যাটার্জি) কক্ষে প্রবেশ করিলাম। গিয়া দেখি প্রতুলবাবু (ভট্টাচার্য), বিনয়বাবু (রায়), খাঁ সাহেব, পঞ্চাননবাবু, বোধ হয় যতীনদাও (ভট্টাচার্য) উপস্থিত রহিয়াছেন।

 আসন গ্রহণ করিয়া স্বভাবসুলভ চাপল্যে দাঁত বাহির করিয়া বলিলাম “বাবা, এ যে দেখছি হাইকম্যাণ্ড মিটিং! আমাকে তলব কেন?”

 কেনটা বুঝাইবার ভার প্রতুলবাবু গ্রহণ করিলেন। তিনি তাঁহার বক্তব্য যতই পরিষ্কার করিতে লাগিলেন, আমার দুই ভুরু ততই কুঞ্চিত হইয়া আসিতে লাগিল। অর্থাৎ আমিও চিন্তাশীল বা চিন্তিত হইয়া উঠিতে লাগিলাম। টের পাইলাম, আমার স্বভাবের গাত্র হইতে চাপল্য বহির্বাসের ন্যায় পরিত্যক্ত হইল, আমার সত্তার সমস্ত শক্তি লইয়া আমি গম্ভীর হইয়া প্রতীক্ষা করিতে লাগিলাম।


 প্রতুলবাবুর মোট বক্তব্য এই যে, নিজেদের মধ্যে দীর্ঘদিন আলাপ-আলোচনার পর তাঁহারা সাব্যস্ত করিয়াছেন যে, অন্ততঃ সমাজতান্ত্রিক ভিত্তিতে একটি পার্টি গঠন বক্সা-ক্যাম্পেই করিয়া লওয়া উচিত। সকলেই সম্মত হইয়াছেন। অবশেষে মাস্টার মশায়ের (অধ্যাপক যতীশ ঘোষ) নিকট যাওয়া হয়। তিনি সমস্ত শুনিয়া শেষে নাকি মন্তব্য করিয়াছেন, “অমলেন্দুকে জিজ্ঞেস কর গিয়ে।” অর্থাৎ, আমার মতামত না জানা পর্যন্ত, তিনি নিজের মতামত প্রকাশ করিবেন না, কিংবা আমি যদি এই পার্টিগঠনে সম্মত হই, তবে তাঁহার দিক দিয়াও কোন আপত্তি থাকিবে না।

 প্রতুলবাবু জিজ্ঞাসা করিলেন, “এখন আপনি কি বলেন?”

 আমার মুখ দিয়া বাহির হইয়া গেল, “Misuse of energy, শক্তির অপচয়।”

১৬৯