পাতা:বক্সা ক্যাম্প.djvu/১৭৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

 যেন বোমা মারিয়া বসিয়াছি, এমনই মুখের ভাব উপস্থিত ভদ্রমহোদয়গণের দেখিতে পাইলাম। দেশের স্বাধীনতার দেখা নাই, অথচ মতবাদের মোহে বা লড়াইতে ইঁহারা আকৃষ্ট হইয়াছেন, এই মনোভাবটিই উক্ত ইংরেজী শব্দ কয়টিতে ব্যক্ত হইল। ইহাকে ভর্ৎসনাও বলা চলে।

 বেশী বাদানুবাদের মধ্যে না গিয়া সংক্ষেপে বলিলাম, “না, এখন পার্টি গঠন হতে পারে না, অন্তত জেলে তো নয়ই। এ পণ্ডশ্রম করবেন না।” বলিয়া বাহির হইয়া আসিলাম।

 কম্বলের ঘরে আসিয়া ডেক চেয়ারে কাৎ হইলাম। প্রথমেই মনে হইল কোথাকার জল কোথায় গড়াইয়া চলিয়াছে!

 দ্বিতীয় যে-কথাটি মনে জাগিল, আমার জীবনেরই তাহা মারাত্মক প্রশ্ন। এই প্রশ্নটিই ক্রমে ক্রমে আমার জীবনের প্রধান ও একমাত্র প্রশ্ন হইয়া দেখা দিয়াছিল বছর তিনেক পরে, তখন আমরা রাজপুতানার মরুভূমিতে দেউলী-ক্যাম্পে। এই প্রশ্নটির ধাক্কায় আমার জীবনের দৃষ্টিভঙ্গীর আমূল পরিবর্তন সংঘটিত হইয়াছিল। স্বীকার করিতে দোষ নাই যে, এই প্রশ্নের যে-পরিণতি আমার জীবনে দেখা গেল, তাহাতে আমার জীবনের ভারকেন্দ্রই উৎপাটিত হইয়া স্থানান্তরিত হইল। এতদিনের আমিটা অকস্মাৎ তাহার আজন্ম নিবাসটি ত্যাগ করিয়া নূতন স্থানে ঘর বাঁধিল। প্রশ্নটির ইহাই হইল পরিণাম, তাই ইহাকে আমি মারাত্মক প্রশ্ন বলিয়া উল্লেখ করিয়াছি।

 ডেক-চেয়ারে কাৎ হইয়া আছি, মুখে সিগারেট, চোখ বুজিয়া টানিয়া যাইতেছিলাম। কোথাকার জল কোথায় গড়াইয়া চলিয়াছে, আমার বন্ধুদের রাজনৈতিক জীবন-ক্ষেত্র সম্বন্ধেই এই মনোভাব আমার টের পাইলাম। তারপর দেখি যে, আমার ব্যক্তিগত জীবনক্ষেত্রেও এই জল গড়াইবার সূত্রপাত শুরু হইয়াছে।

 মনের গভীর হইতে প্রশ্ন বাহির হইয়া আসিল, ‘কে তুমি? কতটুকু তুমি জান শুনি যে, এতগুলি লোকের জীবনযাত্রা সম্বন্ধে মত প্রকাশ কর? কতটুকু

১৭০