পাতা:বক্সা ক্যাম্প.djvu/১৮২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

 আপনারা জানেন যে, চিরদিন কারো সমান যায় না, আমাদেরও যায় নাই। তাই দুঃখের দিন আমাদের দেখা দিতে লাগিল। তারিখটা এখন আর ঠিক স্মরণে নাই, তবে যতটুকু মনে পড়ে সেটা বোধ হয় এই বছরেরই প্রথম ভাগে, প্রথম বিপদটা দেখা দিয়াছিল। ঠিক দেখা না দিয়া দূর হইতে দাঁত দেখাইয়া অথবা ভ্যাংচি কাটিয়া গেল বলিলেই সত্য ভাষণ হইবে।

 বেলা তখন গোটা নয়েক হইবে, পূবের পাহাড় ডিঙ্গাইয়া সূর্য আকাশের অনেকখানি হামাগুড়ি দিয়া আগাইয়াছে, আমরা ব্যারাকের বারান্দায় বসিয়া জটলা করিতেছিলাম। এমন সময় জনপঁচিশেক সিপাহী বন্দুকে সঙ্গীন চড়াইয়া মার্চ করিয়া গেটের পথে ক্যাম্পে ঢুকিয়া পড়িল।

 তিন-নম্বরের সামনের মাঠটুকুর কথা নিশ্চয় আপনাদের মনে আছে। সেখানে আসিতেই হাবিলদার অর্ডার দিল,—হল্ট। সিপাহীরা থামিয়া পড়িল। তারপর কি অর্ডার দিল তাহা হাবিলদারই জানে, আমরা দেখিলাম সিপাহী পঁচিশজন অর্দ্ধোপবিষ্ট হইয়া বিশেষ একটা ভঙ্গীতে সঙ্গীনমুখো বন্দুক কয়টি আমাদের ব্যারাকের অভিমুখে বাগাইয়া, যাকে বলে তাক করিয়া রাখিল। আমরা ভাবিলাম, ব্যাপার কি!

 বীরেনদা একটা চেয়ারে ঠ্যাংয়ের উপর ঠ্যাং তুলিয়া গড়গড়ায় তামাকু সেবন করিতেছিলেন, এক মুখ ধোঁয়া ছাড়িয়া কহিলেন, “ইয়ং বেঙ্গল, গরম সীসার জন্য রেডি হও।” গরম সীসা মানে গুলী।

 সে নয় বুঝিলাম, কিন্তু হঠাৎ কেন এই যুদ্ধং দেহি ভাব, তাহা কেহই বুঝিতে পারিলাম না। আর, ঐ নাকবোঁচা সিপাহীদের মুখের ভাব দেখিয়া আমাদের কারো মনে কোন সন্দেহ রহিল না যে, শুধু হুকুমের অপেক্ষা, তাহা হইলেই কারণে বা অকারণে হাসিতে হাসিতে উহারা গরম সীসা বর্ষণ করিতে পারে।

১৭৩