পাতা:বক্সা ক্যাম্প.djvu/১৮৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

অনেকের ধারণা যে, ইহাদের হৃদয় বলিয়া কোন দৈহিক যন্ত্র আদৌ নাই; যেমন মাকুন্দদের বা মেয়েদের গোঁফ দাড়ি নাই।

 উপেন দাস বলিলেন, “নে বাবা, এখন বন্দুকের মুখগুলো শূন্যের দিক রাখ না, তাক করবার যথেষ্ট সময় পাবি।”—ব্যারাকের ভিতরে যাঁহারা ছিলেন, তাঁহারা একে একে সকলেই বারান্দায় বাহির হইয়া আসিলেন। সকলের মুখেই এক প্রশ্ন, “ব্যাপার কি?”

 মিনিট কয়েকের মধ্যেই ব্যাপারটা মালুম হইল। ব্যাপার আর কিছু নয়, সেই যাকে বলে,—হিং টিং ছট। অপরিচিত কয়েকটি লালমুখো সাহেব গেট দিয়া ক্যাম্পে ঢুকিলেন, সঙ্গে ক্যাম্পের অফিসারগণ, পরে জানা গেল যে, হোমমেম্বর প্রেণ্টিস সাহেব ক্যাম্প পরিদর্শনে আসিয়াছেন। তাই এই সতর্ক আয়োজন।

 যাক্ ব্যাপারটা সে-যাত্রা ভ্যাংচির উপর দিয়াই গেল। কিন্তু বিপদের ভ্যাংচি, কাজেই মনের নিশ্চিন্ত ভাবের গোড়াতেই একটা কামড় বসাইয়া দিয়া গেল।

 দেশের রাজনৈতিক অবস্থাটা আপনাদের একটু স্মরণ করিতে হইবে, স্মরণে আমিই সাহায্য করিতেছি। আইন-অমান্য-আন্দোলনের পর ‘অর্দ্ধনগ্ন ফকির’-এর সঙ্গে গান্ধী-আরুইন প্যাক্ট হইয়া গিয়াছে, বড়লাট আরুইন বিদায় হইয়াছেন এবং মাস চারেক হয় লর্ড উইলিংডন দিল্লীর গদিতে আসিয়া বসিয়াছেন। দেশের মনের ভাব, লড়াইতে আমরা প্রায় জিতিয়াছি; আর বিলাতের চার্চিল-কোম্পানী এবং এ-দেশে তাদের সরকারী বে-সরকারী জাতভাইরা ‘গেল রাজ্য গেল মান’ ভাবনায় ম্রিয়মান হইয়া আছেন। নূতন বড়লাট বিস্তর সাধ্য সাধনা করিয়া গান্ধীজীকে বিলাতে গোলটেবিল বৈঠকে যাইতে সম্মত করিতে সমর্থ হইয়াছেন। গান্ধীজী ১৯৩১ সালের ২৯শে আগষ্ট বোম্বাই হইতে লণ্ডনের অভিমুখে যাত্রা করিয়াছেন।

 গান্ধীজী ভারতবর্ষের ভাগ্য পরীক্ষার জন্য তো বিলাতে রওয়ানা হইয়াছেন, আর এদিকে ব্রিটিশ সরকারী বে-সরকারী দল এই সুযোগে ভারতে বসিয়া

১৭৪