পাতা:বক্সা ক্যাম্প.djvu/২২৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

হইবে। একদিন বাদ দিয়া দ্বিতীয় এবং তারও পরে একদিন বাদ দিয়া তৃতীয় দল রওয়ানা হইবে। সর্বশেষ এবং সবচেয়ে খারাপ সংবাদ এই যে, আমি উক্ত ষাটজনের দলে পড়িয়া গিয়াছি।

 সংবাদটিতে ক্যাম্পের মানসিক পরিমণ্ডলে ঝড় তুলিয়া সমস্ত যেন লণ্ডভণ্ড কারয়া দিল। যাঁহাদের যাইতে হইবে, তাঁহাদের মনের নোংগর তোলা হইয়া গেল, এখন পাড়ি দিলেই হয়। আর যাঁহারা থাকিবেন, তাঁহারা যেন সেই বাতাহত কদলীবৃক্ষের ন্যায় একেবারে ধরাশায়ী হইয়াই থাকিবেন, এমনই তাঁহাদের মনের অবস্থা।

 পরদিন প্রথম দল রওয়ানা হইল। সমস্ত ক্যাম্পটা গেটে আসিয়া ভাঙিয়া পড়িল তাঁহাদিগকে বিদায় দিতে।

 বীরেনদা ছিলেন এই প্রথম দলে। খোলা গেটের সম্মুখে তাঁহাকে জড়াইয়া ধরিয়া অশ্বিনীদা কাঁদ কাঁদ সুরে বরিশালিয়া ভাষায় কহিলেন, “আমাদের কি কইরা গেলারে।—”

 বীরেনদাও উক্ত ভাষাতেই তাঁহাকে সান্ত্বনা দিলেন, “কাঁদিসনারে, কাঁদিস না। ওরে আবাগী, ওরে লক্ষ্মীছাড়ী, কি চীজ সব রাইখ্যা গেলাম, বুঝবি, ঠ্যালা বুঝবি।”

 দুইজন প্রবীণ বয়স্ক ব্যক্তির এই বিদায়-ভাষণ, বিচ্ছেদের ব্যথার উপর একটা হাসির স্বচ্ছ আস্তরণ বিছাইয়া দিল। বীরেনদা গেটের পথে শেষবারের মত ফিরিয়া দাঁড়াইলেন। তারপর হাত তুলিয়া আমাদিগকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, “ফলো মি। মেরা পিছমে পিছমে আ যাও” বলিয়া অদৃশ্য হইলেন।

 আমরা ছিলাম তৃতীয় দলে। দ্বিতীয় দল গত পরশ্ব রওনা হইয়া গিয়াছে। আজ আমাদের পালা।

 মালপত্র বহু পূর্বেই রওয়ানা হইয়া গিয়াছে। একসময়ে আমরাও বাহির হইয়া আসিলাম। ফোর্টের পশ্চিম সীমানায় ঝরণাটার কাছে আসিয়া

২২০