পাতা:বক্সা ক্যাম্প.djvu/৫৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

 —“চলুন” বলিয়া চলিতে লাগিলাম।

 কিছু একটা ঘটিয়া গেল বুঝিতে পারিয়া পিছন ফিরিয়া তাকাইলাম। দেখি, শরৎবাবু ছোঁ মারিয়া ছেলেটার হাত হইতে গাছের ডালের লাঠিটা ছিনাইয়া লইয়া হস্তগত করিয়াছেন। ছেলেটা দাঁত বাহির করিয়া হাসিল। ভাবখানা এই যে— “যান, ওটা আপনাকে দিয়ে দিলাম। চাইলেই হোত—”

 কহিলাম—“সিগারেটের দাম এটা, বুঝলি? ঋণ থেকে মুক্ত হলি, নইলে নরকে যেতিস, কেউ ঠেকাতে পারত না। অমনিতেও যাবি, কেউ ঠেকাতে পারবে না।

 পাহাড়ে পা দিয়া মনের ছেলেমানুষী সরিয়া গেল।

 কিন্তু আর এক রকমের চাঞ্চল্য মনকে অস্থির করিয়া তুলিল। এখন আমি কোনদিক বাদ দিয়া কোনদিকে তাকাই। যে দিকেই তাকাই, দৃষ্টি আটকা পড়িয়া যাইতে চাহে। এতবড় পাথর, চোখ দিয়া বেষ্টন করিতেই যেন ক্লান্তি আসে। গভীর খাদ, তাকাইয়া দেখিতে মাথা ঝিমঝিম করে, মনে হয় নিম্ন হইতে অদৃশ্য কে যেন প্রবল আকর্ষণ করিতেছে। পাথর কাটিয়া সিঁড়ির মত পথ করা হইয়াছে, একধারে খাড়া পাহাড়, অন্যদিকে গভীর খাদ, উপরে উঠিতে লাগিলাম।

 উপরে যতই উঠিতে লাগিলাম, পরিশ্রম ততই বাড়িতে লাগিল। শরৎবাবুর তো দেখিলাম রীতিমত শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়াছে। পাহাড়ী বাতাস জোরে জোরে টানিয়াও বুক ভরিতে চায় না, বাতাস হাল্কা হইয়া আসিতেছে। ঘন বাতাস টানিয়া এতদিন বাঁচার অভ্যাস করিয়া আসিয়াছি, পাহাড়ী বাতাসে তাই পর্যাপ্ত প্রাণ পাইতেছিলাম না।

 শরৎবাবুর কষ্ট দেখিয়া পাষণ্ডেরও পাষাণ হৃদয় দ্রব হইত। একেই তো ঊর্দ্ধে উঠা চিরকালই একটু শক্ত ব্যাপার, মাধ্যাকর্ষণ নিরন্তর নীচে টানিয়া রাখিতে চাহে; তদুপরি শরৎবাবু পালোয়ান হইলেও একটু স্থূলকায় ব্যক্তি। ভয় হইল, হার্ট ফেল হইয়া রাস্তায় শুইয়া পড়িবেন না তো! তখন এ লাশ লইয়া আমি কি করিব?

৫০