পাতা:বক্সা ক্যাম্প.djvu/৭১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

নয়, সত্যিই নিজেদের উপর শ্রদ্ধা বাড়িয়া গেল। নিজের চেহারা নিজের চোখে দেখিতে হইলে আয়নার আবশ্যক করে, সেই আয়নাটা এতদিনে পাইয়া গেলাম। আমাদের সম্বন্ধে ইংরেজের বিভীষিকাই সেই আয়না, তাতে আমাদের যে প্রতিমূর্তি প্রতিফলিত দেখিলাম, তাহা প্রকৃতই আমাদের আত্মশ্রদ্ধা ও আত্মশ্লাঘা বর্ধিত করিয়া দিল এবং তাল আমার কাছে একটুও অযথা বা অযৌক্তিক বোধ হইল না। নিজের মূল্য নির্ধারণের বহু উপায়ই হয়তো আছে। কিন্তু অপরের ভয়-ভীতিও একটি প্রামাণ্য নিকষ-পাথর, যাতে আমরা আসল কি মেকি তাহা বেশ কষিয়া লওয়া চলে—ইহাই আমার বিশ্বাস।

 ১৯০৫ সালে একদিন বাঙলার মাটিতে ফাটল দেখা দিয়াছিল, সে ভাঙ্গা ফাটল অবশ্য জোড়া লাগিয়া আবার সেই আস্ত বাঙলাই হইল। কিন্তু মাঝখান হইতে একটা ‘কিন্তু’ জন্ম লইল, সেই ফাটলের পথে বাঙলার মাটির গভীর গহ্বর হইতে একটা সাপ বাহির হইয়া আসিল দাঁতে বিষ ও ছোবল লইয়া। সে সাপ কোন লাঠিতেই মরিল না,— অবশ্য লাঠিও তখন পর্যন্ত ভাঙ্গে নাই, কিংবা গর্তে ফিরিয়া গিয়া কুণ্ডলীশয্যায় আবার ঘুমাইয়াও পড়িল না। সেই নাগিনীর ফনার ছত্রছায়ায় যে ইতিমধ্যে এতগুলি বিষাক্ত শিশু সাপ পুষ্ট ও বর্ধিত হইয়াছে ইহা কে ভাবিতে পারিয়াছিল! সকলের মুখের দিকে চাহিয়া দেখিতাম, কি বিষ-স্তন্যে কোন্-নাগমাতা এদের পালন করিয়াছে, তা কি এরা জানে! অধিকাংশ বন্দীই একে অপরের অপরিচিত, কিন্তু গোত্রে এদের মিল আছে, একই বিষবন্ধনে ইহারা গ্রথিত। তাই বন্ধনরজ্জুর একস্থানে টান পড়িলে সর্বত্রই আকর্ষণ সঞ্চারিত হয়। তাই একই বেড়াজালে জড়াইয়া ইহাদিগকে বন্দি-নিবাসের ডাঙ্গায় টানিয়া তোলা সম্ভব হইয়াছে। গোপনে অন্ধকারে যাহাদের অবস্থিতি সম্বন্ধে সজাগ হইয়াছি, আজ প্রকাশ্যে তাহারা একত্রিত হইয়াছে এবং তাহাদের সংখ্যাটা যে এত বৃহৎ ইহা এমনভাবে জানিবার বা অনুমান করিবার তেমন সুযোগ আমরা পূর্বে পাই নাই।

৬২