পাতা:বক্সা ক্যাম্প.djvu/৮৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

 সভা বসিয়াছিল তিন নম্বরের ‘এ’ ব্যারাকে। বারান্দা ধরিয়া আগাইতে আগাইতে দেখিলাম যে, ঘরটি একেবারে ঠাসা হইয়া আছে। কিন্তু সভার কাজ আরম্ভ হইয়াছে কি না, তখনও বুঝিতে পারিলাম না। যেখানে সভাপতির আসন থাকিবার কথা, সেই দরজা পর্যন্ত আগাইয়া গেলাম এবং খোলা দরজা দিয়া ঢুকিয়া পড়িয়া থামিয়া দাঁড়াইলাম,—কোথায় গিয়া এখন স্থান লই বা দাঁড়াই। কিভাবে ঢুকিয়াছিলাম, ঠিক বলিতে পারিব না, তবে প্রায় সকলের দৃষ্টিই আমার উপর যুগপৎ নিপতিত হইয়াছে, ইহা টের পাইলাম।

 ডাহিনে তাকাইয়া দেখিলাম, কয়েকখানা লোহার খাটিয়া একত্রিত করিয়া লওয়া হইয়াছে। তদুপরি নেতারা স্থান গ্রহণ করিয়াছেন। মধুদা (সুরেন ঘোষ), প্রতুলবাবু (গাঙ্গুলি), মহারাজ (ত্রৈলোক্য চক্রবর্তী), ভূপেনবাবু (দত্ত), অরুণবাবু (গুহ), যতীনবাবু (ভট্টাচার্য), জীবনবাবু (চ্যাটার্জী) প্রমুখ নেতৃবর্গ উপবিষ্ট আছেন। তাঁহাদের পাশেই একটি ডেক-চেয়ারে উপবিষ্ট দেখিতে পাইলাম আমার বন্ধুবর পঞ্চাননবাবুকে (চক্রবর্তী) এবং তাঁহারই পাশে একটি চেয়ারে আসন লইয়া অবস্থিত ভূপতিদা (মজুমদার)। চক্ষু ঘুরাইয়া একটু বাঁয়ে আসিতেই নজরে পড়িল যে বিরাট দেহ লইয়া রবিবাবু (সেন) চেয়ারে উপবিষ্ট, তাঁর পাশের চেয়ারে দীর্ঘকায় ও দীর্ঘনাসা রেজাক সাহেব এবং তাঁর পাশের চেয়ারে কালী সেন মহাশয়। ঘরে ঢুকিয়া এটুকু দেখিয়া লইতে আমার দু-তিন সেকেণ্ডের অধিক সময় লাগে নাই। দরজার ঠিক বাঁ পাশেই দেয়াল ঘেঁষিয়া সভাপতির চেয়ার, কিন্তু শূন্য।

 এমন সময় অর্থাৎ আমি সভাগৃহে প্রবেশ করিয়া থামিয়া দাঁড়াইবার সঙ্গে সঙ্গেই ভূপতিদার গলা শুনিতে পাইলাম, তিনি চেয়ার ছাড়িয়া উঠিয়া দাঁড়াইয়াছেন এবং বলিতেছেন—“আমি প্রস্তাব করি যে, আজকের সভায় অমলেন্দু দাশগুপ্ত সভাপতির আসন গ্রহণ করুন।”

 মধুদার পাশেই প্রতুলবাবু উপবিষ্ট ছিলেন, উপবিষ্ট অবস্থাতেই তিনি জানাইলেন—“আমি এ-প্রস্তাব সমর্থন করিতেছি।”

৭৭