পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (প্রথম ভাগ).djvu/১৩০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


विषइन्न করিয়া গান শুনিতে আসিলেন । বৈষ্ণবী গান্নিতে লাগিল ;– “মরি মর্ব কাট ফুটে, ফুলের মধু খাব লুটে, খুঁজে বেড়াই কোথায় ফুটে, নবীন মুকুল ।” কমলমণি ভ্ৰাভঙ্গী করিয়া বলিলেন, “বৈষ্ণবী দিদি —তোমার মুখে ছাই পৰ্ভুক—ঙ্গার তুমি মর। আর কি গান জান না ?” হরিদাসী বুলিল, “কেন ?” কমলের আরও রাগ বাড়িল ; বলিলেন, "কেন ?" একটা বাবলার ডাল আন ত রে-কাট ফোট কত সুখ, মাগীকে দেখিয়ে हेि ।” স্বৰ্য্যমুখী মৃদু ভাবে হরিদাসীকে বলিলেন, “ও সব গান আমাদের ভাল লাগে ন—গৃহস্থবাড়ী, ভলি গান গাও ” হরিদাসী বলিল, *আচ্ছ। fo আরম্ভ করিল— “স্মৃতিশাস্ত্র পড়ব আমি ভট্টাচার্য্যের পায়ে ধ'রে । ধৰ্ম্মাধৰ্ম্ম শিখে নিব, কেন বেটী বা নিমণ করে।” কমল ভ্ৰকুট করিয়া বলিলেন, “গিল্পী মশাই— তোমার প্রবৃত্তি হয়, তোমার বৈষ্ণবীর গান তুমিই শোন, আমি চলিলাম।” এই বলিয়া কমল চলিমু৷ গেলেন—স্বৰ্য্যমুখী ও মুখ অপ্রসন্ন করিয়া উঠিয় গেলেন। আর আর স্ত্রীলোকের অাপন আপন প্রবৃত্ত্বিমতে কেহ উঠিয়া গেল, কেহ রহিল । কুন্দনন্দিনী রহিল । তাহার কারণ, কুন্দনন্দিনী গানের মৰ্ম্ম কিছুষ্ট বুঝিতে পারে নাই—বড় শুনেও নাই—অদ্য মনে ছিল, এষ্ট জন্য যেখানকার সেইখনেই রহিল । হরিদাসী তখন আর গান করিল না । এদিক্ সেদিক্ বাজে কথা আরম্ভ করিল । গান আর হইল না দেখিয়া আর সকলে উঠিয়া গেল। কুন্দ কেবল উঠিল না—চরণে তাহার গতিশক্তি ছিল কি না সন্দেহ । তখন কুন্দকে বিরলে পাইয়া হরিদাসী ভাহাকে অনেক কথা বলিল । কুন্দ কতক বা শুনিল, কতক বা শুনিল না । স্বৰ্য্যমুখী ইহা সকলই দূর হইতে দেখিতেছিলেন। যখন উভয়ে গাঢ় মনঃসংযোগের সহিত কথাবাৰ্ত্তা হওয়ার চিহ্ন দেখিলেন, তখন স্বৰ্য্যমুখী কমলকে ডাকিয়া দেখাইলেন। কমল বলিল, “কি তা ?” কথা སྨ་རྩྭ་སྨཅ- কহুক না । মেয়ে বৈ ত আর পুরুষ ন। স্বৰ্য্য। মেয়ে কি পুরুষ, তার ঠিক কি ? কমল বিস্থিত হইয়৷ বলিলেন, “সে কি ?” বলিয়া গায়িতে it স্বৰ্য্য। আমার বোধ হয়, কোন ছদ্মবেশী পুরুষ। : তাহা এখনি জানিব—কিন্তু কুন্দ কি পাপিষ্ঠ ! * , *রসো । আমি একটা বাবলার ডাল আনি । , মিন্‌ষেকে র্কাট ফোটার সুখটা দেখাই ।” এই বলিয়া কমল বাবলার ডালের সন্ধানে গেলেন। পথে ; সতীশের সঙ্গে সাক্ষাৎ হইল—সতীশ মামীর সিন্দুর : কোঁটা অধিকার করিয়া বসিয়াছিলেন—এবং সিন্মুৱ ? লইয়া আপনার গালে, নাকে, দাড়িতে, বুকে, পেটে ! বিলক্ষণ করিয়া অঙ্গরাগ করিতেছিলেন-দেখিয়া, কমল, বৈষ্ণবী, বাবলার ডাল, কুন্দনন্দিনী প্রভৃতি সবভুলিয়া গেলেন। - তখন স্থৰ্য্যমুখী হীরা দাসীকে ডাকাইলেন । হীরার নাম একবার উল্লেখ হইয়াছে । তাহার কিছু বিশেষ পরিচয় আবণ্ঠক । & নগেন্দ্র এবং তাহার পিতার বিশেষ যত্ন ছিল যে, ‘ গৃহের পরিচারিকার বিশেষ সৎস্বভাববিশিষ্ট হয়, এই ৷ অভিপ্রায়ে উভয়েই পৰ্য্যাপ্ত বেতনদান স্বীকার করিয়া একটু ভদ্রঘরের স্ত্রীলোকগণকে দাঙ্গীত্বে নিযুক্ত করিতে চেষ্টা পাইতেন। তাহাদিগের গৃহে পারচারিকা সুখে ও সম্মানে থাকিত, সুতরাং অনেক দারিদ্র্যগ্রস্ত ভদ্রলোকের কন্সার তাহাদের দাসীবৃত্তি স্বীকার করি ত এই প্রকার যাহারা ছিল, তাহাদের মধ্যে হীর প্রধান । অনেকগুলি পরিচারিক কায়স্তক)-ইীরাও কায়স্থ । নগেন্দ্রের পিতা হীয়াপ্প , মাতামহঁকি গ্রামান্তর হইতে আনয়ন করেন । প্রথমে ভাঙ্গার মাতামহীই পরিচর্য্যায় নিযুক্ত হুইয়াছিল— হীরা তখন বালিকা, মাতামহীর সঙ্গে আসিয়াছিল । পরে হীরা সমর্থ হইলে, প্রাচীন দাসীবৃত্তি ত্যাগ করিয়! আপন সঞ্চিত ধনে একটি সামান্ত গৃহ নিৰ্ম্মাণ: করিয়া গোবিন্দপুরে বাস করিল-হীরা দত্তমূহে চাকরী করিতে প্রবৃত্ত হইল । . এক্ষণে হীরার বয়স বিংশতি বৎসর। বয়সে সে অন্যান্য দাসীগণ অপেক্ষ কনিষ্ঠ। তাহার বুদ্ধির প্রভাবে এবং চরিত্রগুণে সে দাসমধ্যে শ্রেষ্ঠা বলিয়া গণিত হইয়াছিল । - হীরা বাল্যবিধবা বলিয়া গোবিন্দপুরে পরিচিত । কেহ কখন তাহার স্বামীর কোন প্রসঙ্গ গুণে নাই । কিন্তু হীরার চরিত্রেও কেহ কোন কলঙ্ক শুনে নাই। তবে হীরা অত্যন্ত মুখরা, সধবার স্থায় । বেশবিদ্যাস করিত এবং বেশবিন্যাসে বিশেষ প্রতা ছিল } . ; হীরা আবার সুন্দরী-উজ্জল শুামাঙ্গী, পদ্মপলাশলোচনা। দেখিতে খৰ্ব্বাঙ্কতি মুখখানি লেঃ •