পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (প্রথম ভাগ).djvu/১৩৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


‘ව8 বিংশ পরিচ্ছেদ शैद्भiब्र ८छ्ष । প্রাতে উঠিয়া হীরা কাজে গেল। দত্তদের বাড়ীতে দুই দিন পর্য্যস্ত বড় গোল, কুন্দকে পাওয়া যায় না । বাড়ীর সকলেই জানিল যে, সে রাগ করিয়া গিয়াছে, পাড়াপ্রতিবাসীরা কেহ জানিল, কেহ জানিল না । নগেন্দ্ৰ শুনিলেন যে, কুন্দ গৃহত্যাগ করিয়া গিয়াছে— কেন গিয়াছে, কেহ ভাহা শুনাইল না । নগেন্দ্র ভাবিলেন, আমি যাহা বলিয়াছিলাম, তাহা শুনিয়া কুন্দ আমার গৃহে আর থাকা অমুচিত বলিয়া চলিয়া গিয়াছে। যদি তাই, তবে কমলের সঙ্গে গেল না কেন ? নগেন্দ্রের মুখ মেঘাচ্ছন্ন হইয়া রহিল । কেহ তাহার নিকটে আসিতে সাহস করিল না। স্থৰ্যমুখীর কি দোষ, তাহ কিছু জানিলেন না, কিন্তু স্বৰ্যমুখীর সঙ্গে আলাপ বন্ধ করিলেন । গ্রামে গ্রামে পাড়ায় পাড়ায় কুন্দনন্দিনীর সন্ধানার্থ স্ত্রীলোক চর পাঠাইলেন । স্বৰ্য্যমুখী রাগে বা ঈর্ষার বশীভূত হইয়া যাহাই বলুন, কুন্দের পলায়ন শুনিয়া অতিশয় কাতর হইলেন, বিশেষ কমলমণি বুঝাইয়া দিলেন যে, দেবেন্দ্র যাহা বলিয়াছিল, তাহা কদাচ বিশ্বাসযোগ্য নহে । কেন না, দেবেন্দ্রের সহিত গুপ্তপ্রণয় থাকিলে, কখন অপ্রচার থাকিত না । আর কুন্দের যেরূপ স্বভাব, তাহাতে কদাচ ইহা সম্ভব বোধ হয় না। দেবেন্দ্র মাতাল, মদের মুখে মিথ্যা বড়াই করিয়াছে। স্থৰ্য্যমুখী এ সকল কথা বুঝিলেন, এ জন্য অনুতাপ কিছু গুরুতর হইল। তাঁহাতে আবার স্বামীর বিরাগে আরও মৰ্ম্মব্যথা পাইলেন । শতবার কুন্দকে গালি দিতে লাগিলেন । সহস্ৰ বার আপনাকে গালি দিলেন । তিনিও কুন্দের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন । কমল কলিকাতায় যাওয়া স্থগিত করিলেন । কমল কাহাকেও গালি দিলেন না—স্বৰ্য্যমুখীকেও অণুমাত্র তিরস্কার করিলেন না । কমল গল হইতে কণ্ঠহার খুলিয়া লইয়া গৃহস্থ সকলকে দেখাইয়া ৰলিলেন, “যে কুন্দকে আনিয়া দিবে, তাহাকে এই *াঁর দিব ।” পাপ হীরা এই সব দেখে শুনে, কিন্তু কিছু বলে মা, কমলের হার দেখিয়া এক একবার লোভ হইয়াছিল, কিন্তু সে লোভ সংবরণ করিল। দ্বিতীয় দিন কাজ করিয়া দুই প্রহরের সময়ে আল্পীর স্নানের সময় বুঝিয়া কুন্দকে খাওয়াইল । পরে রাত্রে আসিয়া উভয়ে শষ্যারচনা করিয়া শয়ন করিল। কুনা বা হীরা কেহই নিদ্রা গেল নাগ-কুন্দ আপনার মনের দুঃখে জাগিয়া রহিল। হীরা আপন মনের মুখ-দুঃখে জাগিয়া রহিল। সেও কুন্দের ন্যায় বিছানায় শুইয়া চিন্তা করিতেছিল। যাহা চিস্তা করিতেছিল, তাহা মুখে অবাচ্য—অতি গোপন । ও হীরে ! ছিঃ! ছি:! হীরে । মুখখানি ত দেখিতে মন নয়—বয়সও নবীন, তবে হৃদয়মধ্যে এত খলকপট কেন ? কেন ? বিধাতা তাহাকে ফাকি দিল কেন ? বিধাতা তাহাকে ফাকি দিয়াছে, সেও সকলকে ফাকি দিতে চায়। হীরাকে স্বৰ্য্যমুখীর আসনে বসাইলে হীরার কি খলকপট থাকিত ? হীরা বলে, “মা”। হীরাকে হীরার আসনে বসাইয়াছে বলিয়াই হীরা, হীরা। লোক বলে “সকলই দুষ্টের দোষ ।” দুষ্ট বলে, “আমি ভালমানুষ হইতাম -কিন্তু লোকের দোষে দুষ্ট হইয়াছি।” লোকে বলে, “পাচ কেন সাত হইল না ?" পাঁচ বলে, “আমি সাত হুইতাম —কিন্তু দুই আর পাচে সাত-বিধাতা অথবা বিধাতার স্বস্ট লোকে যদি আমাকে আর দুই দিত, তা হ'লেই আমি সাত হইতাম। হীরা তাহাই ভাবিতেছিল। হীরা ভাবিতেছিল –“এখন কি করি ? পরমেশ্বর যদি সুবিধা করিয়া দিয়াছেন, তবে আপনার দোষে সব নষ্ট না হয়। এ দিকে যদি কুন্দকে দত্তের বাড়ী ফিরিয়া লইয়া ষাই, তবে কমল হার দিবে, গৃহিণীও কিছু দিবেন—বাবুকেই কি ছাড়িব ? আর যদি এ দিকে কুন্দকে দেবেন্দ্র বাবুর হাতে দিই, তা হ'লে অনেক টাকা নগদ পাই । কিন্তু সে ত প্রাণ থাকিতে পারিব না। আচ্ছা, দেবেন্দ্র কুন্দকে কি এত সুন্দরী দেখেছে ? অামরা গতর খাটিয়ে খাই ; আমরা যদি ভাল খাই, ভাল পরি, পটের বিবির মত ঘরে তোলা থাকি, তা হ'লে আমরাও অমন হ’তে পারি। আর এটা মিন্‌মিনে, ঘ্যানঘেনে, প্যানপেনে, সে দেবেন্দ্র বাবুর মৰ্ম্ম বুঝিবে কি ? পাক নইলে পদ্মফুল ফুটে না, আর কুন নইলে দেবেন্দ্র বাবুর মনোহরণ হয় না । তা যার কপালে যা, আমি রাগ করি কেন ? রাগ করি কেন ? হাঃ কপাল! আর মনকে চোখ ঠাবৃয়ে কি হবে ? ভালবাসার কথা শুনিলে হাসিতাম। বলিতাম, ও সব মুখের কথা, লোকে একটা প্রবাদ আছে মাত্র। এখন আর ত হাসিব না। মনে করিয়াছিলাম, যে ভালবাসে, সে বামুক, আমি ত কখনও কাহাকে ভালবাসিব না । ঠাকুর বল্পে, রহ, তোরে মজা দেখাচ্ছি। শেষে বেগারের গঙ্গাস্বান। পরের চোর ধবৃতে গিয়ে আপনার প্রাণটা চুরি গেল ! কি মুখখানি । কি গড়ন । কি