পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (প্রথম ভাগ).djvu/১৪৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


遍 *ス জানিয়া কমলের হাতে দিল । কমল দেখিলেন, স্বৰ্য্যমুখীর পত্র। খুলিয়া পড়িলেন। পড়িয়া আবার পড়িলেন। আবার পড়িয়া বিষণ্ণমনে মৌনী হুইয়া বসিলেন । পত্র এইরূপ— “প্রিয়তমে । তুমি কলিকাতায় গিয়া পৰ্য্যস্ত আমাদের ভুলিয়া গিয়াছ—নহিলে একখানি বই পত্র লিখিলে না কেন ? তোমার সংবাদের জন্য আমি সৰ্ব্বদা ব্যস্ত থাকি, জান না ? “তুমি কুন্দনন্দিনীর কথা জিজ্ঞাসা করিয়াছিলে, তাহাকে পাওয়া গিয়াছে—শুনিয়া সুখী হুইবে— যষ্ঠদেবতার পূজা দিও। তাহা ছাড়া আরও একটা খোসখবর আছে—কুন্দের সঙ্গে আমার স্বামীর বিবাহ হুইবে—এ বিবাহে আমিই ঘটক । বিধবাবিবাহ শাস্ত্রে আছে—তবে দোষ কি ? দুই এক দিনের মধ্যে বিবাহ হইবে । তুমি আসিয়া জুটিতে পরিবে ন!—নচেৎ তোমাকে নিমন্ত্ৰণ করিতাম । পার যদি, তবে ফুলশয্যার সময়ে আসিও । কেন না,5 তোমাকে দেখিতে বড় সাধ হইয়াছে " - কমলমণি পত্রের কিছুই অর্থ বুঝিতে পারিলেন না । ভাবিয়া চিন্তিয়া সতীশ বাবুকে পরামর্শ জিজ্ঞাসা করিলেন । সতীশ ততক্ষণ সম্মুখে একখানা বাঙ্গাল কেতাব পাইয়া তাহার কোণ খাইতেছিল, কমলমণি তাহাকে পত্ৰখানি পড়িয়া শুনাইলেন, জিজ্ঞাসা করিলেন, “এর মানে কি, বল দেখি সতু বাবু ?” সতু বাবু রস বুঝিলেন, মাতার হাতের উপর ভর দিয়া দাড়াইয়া উঠিয়া কমলমণির নাসিকা-ভোজনে প্রবৃত্ত হইলেন । সুতরাং কমলমণি স্বৰ্য্যমুখীকে ভুলিয়া গেলেন । সতু বাবুর নাসিকা-ভোজন সমাপ্ত হইলে কমলমণি আবার স্বৰ্য্যমুখীর পত্র পড়িতে লাগিলেন। মনে মনে বলিলেন, “এ সতু বাবুর কৰ্ম্ম নয়,- এ আমার সেই মন্ত্রীটি নহিলে হইবে না। মন্ত্রীর আপিস কি ফুরায় না ? সতু বাবু, আজ এস, আমরা রাগ করিয়া থাকি ” যথাসময়ে মন্ত্রিবর ক্রীশচন্দ্র আপিস হুইতে আসিয়া ধড়াচুড়া ছাড়িলেন । কমলমণি র্তাহাকে জল খাওয়াইয়া, শেষে সতীশকে লইয়। রাগ করিয়া গিয়া খাটের উপর গুইলেন । শ্ৰীশচন্দ্র রাগ দেখিয়া হাসিতে হাসিতে ছক্কা লইয়া দুরে কোঁচের উপর বসিলেন। হুঙ্কাকে সাক্ষী করিয়া বলিলেন, “হে ছকে ! তুমি পেটে ধর গঙ্গাজল, মাথায় ধর আগুন ! তুমি সাক্ষী, যারা আমার উপর রাগ করেছে, তারা এখনি আমার সঙ্গে কথা কবে—কবে—কবে । নহিলে আমি তোমার মাথায় আগুন দিয়া এইখানে বসিয়া नििषङ्गव । 8७ङ्के দশ ছিলিম তামাক পোড়াব!” . গুনিয়া কমলমণি ৷ উঠিয়া বসিয়া মধুর কোপে নীলোৎপল তুল্য চক্ষু ঘুরাইয়া বলিলেন, “আর দশ ছিলিম তামাক টানে । না ! এক ছিলিমের টানের জালায় আমি একটি কথা কইতে পাই না—আবার দশ ছিলিম তামাক . খায়—আমি আর কি ভেসে এয়েছি।” এই বলিয়৷” শয্যাত্যাগ করিয়া উঠিলেন এবং হুঙ্কা হইতে ছিলিম তুলিয়া লইয়া সাগ্নিক তামাকুঠাকুরকে বিসর্জন । দিলেন । > এইরূপে কমলমণির দুর্জয় মানভঞ্জন হইলে তিনি মানের কারণের পরিচয় দিয়া স্বৰ্য্যমুখীর পত্র : পড়িতে দিলেন এবং বলিলেন, “ইহার অর্থ করিয়া । দাও, তা নহিলে আজ মন্ত্রিবরের মাহিয়ানা কাটিব ।” இ | করিব । কমলমণি শ্ৰীশচন্দ্রের মুখের কাছে মুখ আনিলেন, শ্ৰীশচন্দ্র মাছিয়ানা আদায় করিলেন। তখন পত্র পড়িয়া বলিলেন, “এটা তামাসা ।” 2. বরং আগাম মাহিয়ানা দাও—অর্থ কম। কোমূট তামাসা ? তোমার কথাটা ন}; পত্ৰখান ? • - ঐশ। পত্ৰখানা । কম। আজি মন্ত্রিমশায়কে ডিশচার্জ করিব। ঘটে এ বুদ্ধিটুকুও নাই ? মেয়েমানুষে কি এমন তামাসা মুখে আনিতে পারে ? শ্ৰীশ । তবে যা তামাসা করে পারে না, ত৷ সত্য সত্য পারে ? কম । প্রাণের দায়ে পারে । হয়, এ সত্য । শ্ৰীশ । সে কি ? সত্য, সত্য ? কম । মিথ্যা বলি ত কমলমণির মাথা খাই । শ্ৰীশচন্দ্র কমলের গাল টিপিয়া দিলেন । কমল বলিলেন, *আচ্ছা, মিথ্য বলি उ5 কমলমণির সতীনের মাথা খাই ।” ত্রশ। তা হ'লে কেবল উপবাস করিতে হুইবে । কম । ভাল, কারু মাথা নাই খেলাম, এখন বিধাতা বুঝি স্থৰ্যমুখীর মাথা খায়। দাদা বুঝি জোর ক’রে বিয়ে কবৃতেছে। . শ্ৰীশচন্দ্র বিমনা হইলেন । বলিলেন, “আমি কিছু বুঝিতে পারিতেছি না । নগেন্দ্রকে পত্র লিখিব ?, কি বল ?” - - কমলমণি তাহাতে সম্মত হইলেন। জীশচন্দ্র ব্যঙ্গ করিয়া পত্র লিখিলেন। নগেন্দ্র প্রত্যুত্তরে স্বাঞ্ছা লিখিলেন, তাছা এই – . . श्रांबांद्र cदांश