পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (প্রথম ভাগ).djvu/১৭৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ዓ8 দেখিতে গেল। মন্দভাগিনী কুন্দনন্দিনী সেই অৰ r!. ...” কাশে কোঁটা হইতে বিষের মোড়ক চুরি করিল। অষ্টচত্বারিংশত্তম পরিচ্ছেদ কুন্দের কার্য্যতৎপরতা হীরা আসিয়া শঙ্খধ্বনির যে কারণ দেখিল, প্রথম তাহার কিছুই বুঝিতে পারিল না। দেখিল, একটা বৃহৎ ঘরের ভিতর গৃহস্থ যাবতীয় স্ত্রীলোক, বালক এবং বালিকা সকলে মিলিয়া কাহাধে মণ্ডলাকারে বেড়িয়া মহাকলরব করিতেছে । যাহাকে . বেড়িয়া তাহার কোলাহল করিতেছে—সে স্ত্রীলোক . —হীরা কেবল তাহার কেশরাশি দেখিতে পাইল । হীরা দেখিল, সেই কেশরাশি কৌশল্যাদি পরিচারিকাগণ স্বস্নিগ্ধ তৈলনিষিক্ত করিয়া, কেশরঞ্জিনীর দ্বারা রঞ্জিত করিতেছে । যাহার। তাহাকে মণ্ডলাকারে বেড়িয়া আছে, তাহার কেহ হাসিতেছে, কেহ কাদি তেছে, কেহ বকিতেছে, কেহ আশীৰ্ব্বচন কহিতেছে। বালক বালিকারা নাচিতেছে, গায়িতেছে এবং করতালি দিতেছে । সকলকে বেড়িয়া বেড়িয়া কমলমণি শাখ বাজাইতেছেন ও হুলু দিতেছেন এবং র্কাদিতে কাদিতে হাসিতেছেন—এবং কখন কখন এদিক্‌ ওদিক্‌ চাহিয়া, এক একবার নৃত্য করিতেছেন। দেখিয়া হীর বিস্মিত হইল। হীরা মণ্ডলমধ্যে গলা বাড়াইয়া উকি মারিয়া দেখিল । দেখিয়া বিস্ময় . বিহ্বল হইল। দেখিল যে, স্বৰ্য্যমুখী হুৰ্ম্ম্যতলে বসিয়া, সুধাময় সম্মেহ হাসি হাসিতেছেন । কৌশল্যাদি তাহার রুক্ষ কেশভার কুসুমমবাসিত তৈলসিক্ত করিতেছেন ; কেহ বা তাহ রঞ্জিত করিতেছে ; কেহ বা আর্দ্র গাত্ৰস্ৰক্ষণীর দ্বারা তাহার গাত্র পরি মার্জিত করিতেছে । কেহ বা র্তাহার পূৰ্ব্বপরিত্যক্ত অলঙ্কার সকল পরাইতেছে। স্থৰ্য্যমুখী সকলের সঙ্গে মধুর কথা কহিতেছেন–কিন্তু লজ্জিতা, একটু একটু অপরাধিনী হইয়। মধুর হাসি হাসিতেছেন । তাহার গণ্ডে মেহমুক্ত অশ্রু পড়িতেছে। স্বৰ্য্যমুখী মরিয়াছিলেন ; তিনি আসিয়া আবার গৃহমধ্যে বিরাজ করিতেছেন, মধুর হাসি হাসিতেছেন, ইহা দেখিয়াও হীরার হঠাৎ বিশ্বাস হইল না। হীরা অক্ষুটস্বরে এক জন পৌরস্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করিল, *ছ গা, কে গা ?” কথা কৌশল্যার কাণে গেল । কৌশল্যা কহিল, *চেল না, নেকি ? আমাদের ঘরের লক্ষ্মী, আর বঙ্কিমচক্সের গ্রন্থাবলী థ్రా ८डाभाद्र शम " ८कौभगा यड निन शैब्राब ७८ চোরের মত ছিল, আজ দিন পাইয়া ভালমতে চোখ ঘুরাইয়া লইল । বেশবিন্যাস সমাপ্ত হইলে এবং সকলের সঙ্গে আলাপকুশল শেষ হইলে, স্বৰ্য্যমুখী কমলের কাণে কাণে বলিলেন, “তোমায় আমায় একবার কুন্দকে দেখিয়া আসি । সে আমার কাছে কোন দোষ করে নাই—বা তাহার উপর আমার রাগ নাই । সে আমার এখন কনিষ্ঠা ভগিনী ।” কেবল কমল ও স্বৰ্য্যমুখী কুন্দের সম্ভাষণে গেলেন । অনেকক্ষণ র্তাহাদের বিলম্ব হইল । শেষে কমলমণি ভয়ক্লিষ্টবদনে কুন্দের ঘর হইতে বাহির হইলেন এবং অতিব্যস্তে নগেন্দ্রকে ডাকিতে পাঠাই লেন। নগেন্দ্ৰ আসিলে, বধূর ডাকিতেছে বলিয়া তাহাকে কুন্দের ঘর দেখাইয়া দিলেন । নগেন্দ্র তন্মধ্যে প্রবেশ করিলেন। দ্বারে স্বৰ্য্যমুখীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হইল। স্বৰ্য্যমুখী রোদন করিতেছিলেন । নগেন্দ্র জিজ্ঞাসা করিলেন, “কি হইয়াছে ?” স্বৰ্য্যমুখী বলিলেন, “সৰ্ব্বনাশ হইয়াছে। আমি এত দিনে জানিলাম, আমার কপালে এক দিনেরও সুখ নাই—নতুবা আমি আবার সুখী হইবামাত্রই এমন সৰ্ব্বনাশ হুইবে কেন ?” নগেন্দ্র ভীত হইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “কি হইয়াছে ?” স্বৰ্য্যমুখী পুনরপি রোদন করিয়া কহিলেন, “কুন্দকে আমি বালিকাবয়স হইতেই মানুষ করিয়াছি, এখন সে আমার ছোট ভগিনী, বহিনের দ্যায় তাহাকে আদর করিব, সাধ করিয়া আসিয়াছিলাম । আমার সে সাধে ছাই পড়িল । কুন্দ বিষপান করিয়াছে ।” নগেন্দ্র । সে কি ! স্থ! তুমি তাহার কাছে থাক—আমি ডাক্তারবৈদ্য আনাইতেছি । এই বলিয়া স্থৰ্যমুখী নিস্ক্রান্ত হইলেন । নগেন্দ্র একাকী কুন্দনন্দিনীর নিকটে গেলেন। - নগেন্দ্র প্রবেশ করিয়া দেখিলেন, কুন্দ নন্দিনীর মুখে কালিম ব্যাপ্ত হইয়াছে। চক্ষু তেজোহীন হইয়াছে, শরীর অবসন্ন হুইয়া ভাঙ্গিয়া পড়িয়াছে । _