পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (প্রথম ভাগ).djvu/২১৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


పిస్చి তথায় কেহ যাইত না । যদি যাইত, তবে একাকী কেহ যাইত না । নিশাকালে কদাপি কেহ যাইত না । পৌরাণিকধৰ্ম্মের একাধিপত্যকালে হেমচন্দ্র ভূতযোনির অস্তিত্বসম্বন্ধে প্রত্যয়শালী হইবেন, তাহার আর বিচিত্র কি । কিন্তু প্রেতসম্বন্ধে প্রত্যয়শালী বলিয়া তিনি গন্তব্যপথে যাইতে সঙ্কোচ করেন, এরূপ ভীরুস্বভাব নহেন। অতএব তিনি নিঃসঙ্কোচ হইয়। বাপীপাশ্ব দিয়া চলিলেন । নিঃসঙ্কোচ বটে, কিন্তু কৌতুহলশূন্ত নহেন বাপীপাশ্বে সৰ্ব্বত্র এবং তত্তরপ্রতি অনিমেষলোচন নিক্ষিপ্ত করিতে করিতে চলিলেন । সোপানমার্গের নিকটবৰ্ত্তী হইলেন । সহসা চমকিত হইলেন । জনশ্রুতির প্রতি র্তাহার বিশ্বাস দৃঢ়ীকৃত হইল । দেখিলেন, চন্দ্রালোকে সৰ্ব্বাধঃস্থ সোপানে জলে চরণ রক্ষা করিয়া শ্বেতবসনপরিধান কে বসিয়া আছে। স্ত্রীমূৰ্ত্তি বলিয়া র্তাহার বোধ হইল । শ্বেতবসনা অবেণীসংবদ্ধকুন্তলা ; কেশজাল স্কন্ধ, পৃষ্ঠদেশ, বাহুযুগল, মুখমণ্ডল, হৃদয়, সৰ্ব্বত্র আচ্ছন্ন করিয়া রহিয়াছে । প্রেত বিবেচনা করিয়া হেমচন্দ্র নিঃশব্দে চলিয়া যাইতেছিলেন । কিন্তু মনে ভাবিলেন, যদি মনুষ্য হয় ? এত রাত্রে কে এ স্থানে ? সে ত তুরককে দেখিলে দেখিয়া থাকিতে পারে ? এই সন্দেহে হেমচন্দ্র ফিরিলেন । নিৰ্ভয়ে বাপীতীরারোহণ করিলেন, সোপানমার্গে ধীরে ধীরে অবতরণ করিতে লাগিলেন । প্রেতিনী তাহার আগমন জানিতে পারিয়াও সরিল না । পূৰ্ব্বমত রহিল । হেমচন্দ্র তাহার নিকটে আসিলেন । তখন সে উঠিয় দাড়াইল । হেমচন্দ্রের দিকে ফিরিল ; হস্ত দ্বারা মুখাবরণকারী কেশদাম অপস্থত করিল। হেমচন্দ্র তাহার মুখ দেখিলেন । সে প্রেতিনী নহে, কিন্তু প্রেতিনী হইলে হেমচন্দ্র অধিকতর বিস্ময়াপন্ন হইতেন না। কহিলেন,"কে, মনোরমা ! তুমি এখানে ?” মনোরমা কহিল, “আমি এখানে অনেকবার আসি—কিন্তু তুমি এখানে কেন ?” হেম । আমার কৰ্ম্ম আছে । মনে । এ রাত্রে কি কৰ্ম্ম ? হেম । পশ্চাৎ বলিব । তুমি এ রাত্রে এখানে কেন ? মনে । তোমার এ বেশ কেন ? হাতে শূল, কাকালে তরবারি ; তরবারে এ কি জলিতেছে ? এ কি হীরা ? মাথায় এ কি ? ইহাতে ঝকৃমকৃ করিয়া জলিতেছে, এই বা কি ? এও কি হীরা ? এত হীরা পেলে কোথা ? ছেম । আমার ছিল । বঙ্কিমচজের প্রস্থাবলী মনে । এ রাত্রে এত হীরা পরিয়া কোথায় যাইতেছ? চোরে যে কাড়িয়া লইবে ? হেম । আমার নিকট হইতে চোরে কাড়িতে পারে না । মনে । তা এত রাত্রে এত অলঙ্কারে প্রয়োজন কি ? তুমি কি বিবাহ করিতে যাইতেছ ? হেম । তোমার কি বোধ হয় মনোরমা ? মনে । মানুষ মারিবার অস্ত্র লইয়া কেহ বিবাহ করিতে ষায় না । তুমি যুদ্ধে যাইতেছ। হেম । কাহার সহিত যুদ্ধ করিব ? তুমিই ব৷ এখানে কি করিতেছিলে ? মনে । স্নান করিতেছিলাম। স্বাল করিয়া বাতাসে চুল শুকাইতেছিলাম। এই দেখ, চুল এখনও ভিজা রহিয়াছে । এই বলিয়া মনোরম আর্দ্র কেশ হেমচন্দ্রের হস্তে স্পর্শ করাইলেন । হেম । রাত্রে স্বান কেন ? মনে । আমার গ{ জালা করে । হেম । গঙ্গাস্নান না করিয়া এখানে কেন ? মনে । এখানকার জল বড় শীতল । হেম । তুমি সৰ্ব্বদা এখানে আইস ? মনে । আসি । হেম । আমি তোমার সম্বন্ধ করিতেছি— তোমার বিবাহ হুইবে । বিবাহ হইলে—এরূপ কি প্রকারে আসিবে ? মনে । আগে বিবাহ হউক । হেমচন্দ্র হাসিয়া কহিলেন, “তোমার লজ্জা নাই, তুমি কালামুখী ।” মনে । তিরস্কার কর কেন ? তুমি যে বলিয়াছিলে, তিরস্কার করিবে না । হেম । সে অপরাধ লক্টও না । এখান দিয়া কাহাকেও যাইতে দেখিয়াছি ? মনে ] দেখিয়াছি । হেম । তাহার কি বেশ ? মনে । তুরকের বেশ । হেমচন্দ্র অত্যন্ত বিস্মিত হইলেন ; বলিলেন, “সে কি ? তুমি তুরক চিনিলে কি প্রকারে ?” মনে । আমি পূৰ্ব্বে তুরক দেখিয়াছি। হেম । সে কি ? কোথায় দেখিলে ? মনে । যেখানে দেখি না—তুমি কি সেই তুরকের অনুসরণ করিবে ? হেম । করিব—সে কোন পথে গেল ? মনে । কেন ?