পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (প্রথম ভাগ).djvu/২২১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


*や প্রবেশ করিলাম। পথে যখন যবনের কাঠুরিয়াদিগকে দেখিতে পাইয়া তাহাদিগকে মারিতে প্রবৃত্ত হইল—তখন আমি অপস্থত হইয়া বৃক্ষান্তরালে বেশ পরিবর্তন করিলাম। পরে মুসলমান হইয়া ষবনশিবিরের সর্বত্র বেড়াইলাম । পশু। প্রশংসনীয় বটে। যবন-সৈন্ত কত দেখিলে ? শাস্ত । সে বৃহৎ অরণ্যে যত ধরে । বোধ হয়, পচিশ হাজার হইবে । পশুপতি ক্র কুঞ্চিত করিয়া কিয়ৎক্ষণ স্তব্ধ হইয়া রছিলেন । পরে কহিলেন, “তাহাদিগের কথাবাৰ্ত্ত কি শুনিলে ?” শাস্ত । বিস্তর শুনিলাম—কিন্তু তাহার কিছুই আপনার নিকট নিবেদন করিতে পারিলাম না । পশু । কেন ? শাস্ত । যাবনিক ভাষায় পণ্ডিত নহি । পশুপতি হাস্ত করিলেন । শান্তশীল তখন কহি লেন, “মহম্মদ আলি এখানে ষে আসিয়াছিলেন, তাহাতে বিপদ আশঙ্কা করিতেছি ।” পশুপতি চমকিত হইয়া বলিলেন, “কেন ?” শাস্ত । তিনি অলক্ষিত হইয়া আসিতে পারেন নাই । তাহার আগমন কেহ কেহ জানিতে পারিয়াছে । পশুপতি অত্যন্ত শঙ্কান্বিত হইয়া কহিলেন, “কিসে জানিলে ?” শাস্তুশীল কহিলেন, “আমি শ্ৰীচরণদর্শনে আসিবার সময় দেখিলাম যে, বৃক্ষতলে এক ব্যক্তি লুক্কায়িত হইল। তাহার যুদ্ধের সাজ । তাহার সঙ্গে কথোপকথনে বুঝিলাম যে, সে মহম্মদ আলিকে এ পুরীতে প্রবেশ করিতে দেখিয়া তাহার জন্ত প্রতীক্ষা করিতেছে । অন্ধকারে তাহাকে চিনিতে পারিলাম না।” পশু । তার পর ? শাস্ত । তার পর দাস তাহাকে চিত্ৰগৃহে কারারুদ্ধ করিয়া রাখিয়া আসিয়াছে । পশুপতি চেীরোদ্ধরণিককে সাধুবাদ করিতে লাগিলেন এবং কহিলেন, “কাল প্রাতে উঠিয়া সে ব্যক্তির প্রতি বিহিত করা যাইবে । আজি রাত্রিতে সে কারারুদ্ধই থাক। এক্ষণে তোমাকে অন্ত এক কাৰ্য্যসাধন করিতে হইবে ; যবনসেনাপতির ইচ্ছা, অভ রাত্রিতে তিনি মগধরাজপুত্রের ছিন্নমস্তক দর্শন করেন । তাহা এখনই সংগ্ৰহ করিবে ।” শাস্তু । কার্য্য নিতাস্ত সহজ নহে । পিপড়ে-মাছি নন । রাজপুত্র

পশু । আমি তোমাকে এক যুদ্ধে যাইতে বলিতেছি না। কতকগুলি লোক লইয়া তাহার বাড়ী আক্রমণ করিবে । শাস্ত । লোকে কি বলিবে ? পশু । লোকে বলিবে, দক্ষ্যতে র্তাহাকে মারিয়া গিয়াছে । শান্ত । যে আজ্ঞা, আমি চলিলাম । পশুপতি শান্তশীলকে পুরস্কার দিয়া বিদায় করিলেন । পরে গৃহাভ্যন্তরে যথা বিচিত্র স্বক্ষকারুকার্য্যখচিত মন্দিরে অষ্টভুজামূৰ্ত্তি স্থাপিত আছে, তথায় গমন করিয়া প্রতিমাগ্রে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করিলেন । গাত্ৰোখান করিয়া যুক্তকরে ভক্তিভরে ইষ্টদেবীর স্তুতি করিয়া কহিলেন, "জননি । বিশ্বপালিনি ! আমি আকুল সাগরে ঝাপ দিলাম-—দেখিও মা ! আমায় উদ্ধার করিও । আমি জননীস্বরূপ জন্মভূমি কখন দেবদ্বষী যবনকে বিক্রয় করিব না। কেবলমাত্র এই আমার পাপাভিসন্ধি যে, অক্ষম প্রাচীন রাজার স্থানে আমি রাজা হইব। যেমন কণ্টক দ্বারা কণ্টক উদ্ধার করিয়া পরে উভয় কণ্টককে দুরে ফেলিয়া দেয়, তেমনই যবন-সহায়তায় রাজ্যলাভ করিয়ী রাজ্য সহায়তায় যবনকে নিপাত করিব । ইহাতে পাপ কি মা ? যদি ইহাতে পাপ হয়, যাবজ্জীবন প্রজার মুখামুষ্ঠান করিয়া সে পাপের প্রায়শ্চিহু করিব । জগৎপ্রসবিনি ! প্রসন্ন হইয়া আমার কামনা সিদ্ধ কর " এই বলিয়া পশুপতি পুনরপি সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করিলেন । প্রণাম করিয়া গাত্ৰোখান করিলেন— শয্যাগৃহে যাইবার জন্য ফিরিয়া দেখিলেন—অপূৰ্ব্বদর্শন—সম্মুখে দ্বারদেশ ব্যাপ্ত করিয়া জীবনময়ী প্রতিমারূপিণী তরুণী দাড়াইয়া রহিয়াছে । পশুপতি প্রথমে চমকিত হইলেন–শিহরিয়া উঠিলেন । পরক্ষণেই উচ্ছ্বাসোন্মখ সমুদ্রবারিবৎ আনন্দে স্ফীত হইলেন । তরুণী বীণানিন্দিত স্বরে কহিলেন, “পশুপতি ।” পশুপতি দেখিলেন—“মনোরমা !” অষ্টম পরিচ্ছেদ মোহিনী সেই রত্নপ্রদীপদীপ্ত দেবীমন্দিরে, চন্দ্রালোকবিভাসিত দ্বারদেশে, মনোরমাকে দেখিয়া পশুপতির হৃদয় উচ্ছ্বাসোন্মুখ সমুদ্রের ন্যায় স্ফীত হইয়া উঠিল। মনোরমা নিতান্ত খৰ্ব্বাকৃতি নহে, তবে তাহাকে