পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (প্রথম ভাগ).djvu/২৫৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


s>জ্জিণিক্ত হেমচন্দ্র মনোরমার দত্ত ধন উদ্ধার করিয়া তাহার কিয়দংশ জনাৰ্দ্দনকে দিয়া তাহাকে কাশী প্রেরণ করিলেন । অবশিষ্ট ধন গ্রহণ করা কর্তব্য কি না, তাহা মাধবাচার্য)কে জিজ্ঞাসা করিলেন । মাধবাচার্য্য বলিলেন, “এই ধনের বলে পশুপতির বিনাশকারী বখতিয়ার খিলিজিকে প্রতিফল দেওয়া কৰ্ত্তব্য এবং তদভিপ্রায়ে ইহা গ্রহণও উচিত। দক্ষিণ সমুদ্রের উপকূলে অনেক প্রদেশ জনহীন হইয়া পড়িয়া আছে । আমার পরামর্শ ষে, তুমি এই ধনের দ্বারা তথায় নূতন রাজ্য সংস্থাপন কর এবং তথায় ষবনদমনোপযোগী সেনা স্বজন কর । তৎসাহায্যে পশুপতির শত্রুর নিপাত সিদ্ধ করিও ।” এই পরামর্শ করিয়া মাধবাচার্য্য সেই রাত্রিতেই হেমচন্দ্রকে নবদ্বীপ হইতে দক্ষিণাভিমুখে যাত্রা করাইলেন । পশুপতির ধনরাশি তিনি গোপনে সঙ্গে লইলেন। মৃণালিনী, গিরিজায়া এবং দিগ্বিজয় তাহার সঙ্গে গেলেন । মাধবাচার্য্যও হেমচন্দ্রকে নুতন রাজ্যে স্থাপিত করিবার জন্ত তাহার সঙ্গে গেলেন । রাজ্যসংস্থাপন অতি সহজ কাজ হুইয়া উঠিল, কেন না, যবনদিগের ধৰ্ম্মদ্ধেষিতায় পীড়িত এবং তাহাদিগের ভয়ে ভীত হইয় অনেকেই তাহাদিগের অধিকৃত রাজ্য ত্যাগ করিয়া হেমচন্দ্রের নবস্থাপিত রাজ্যে বাস করিতে লাগিল । মাধবাচার্য্যের পরামর্শেও অনেক প্রধান ধনা ব্যক্তি তথায় আশ্রয় লইল । এইরূপে অতি শীঘ্র ক্ষুদ্র রাজ্যটি সৌষ্ঠবান্বিত হইয়া উঠিল । ক্রমে ক্রমে সেনা-সংগ্ৰহ হইতে লাগিল । অচিরাৎ রমণীয় রাজপুরী নিৰ্ম্মিত হইল । মৃণালিনী তন্মধ্যে মহিষী হইয়া সে পুরী আলো করিলেন । গিরিজায়ার সহিত দিগ্বিজয়ের পরিণয় হইল । গিরিজায়া মৃণালিনীর পরিচর্য্যায় নিযুক্ত রহিল, দিগ্বিজয় হেমচন্দ্রের কার্য্য পুৰ্ব্ববৎ নিৰ্ব্বাহ করিতে লাগিল । কথিত আছে যে, বিবাহ অবধি এমন দিনই ছিল না, যে দিন গিরিজায়া এক আধ স্বা ঝণটার আঘাতে দিগ্বিজয়ের শরীর পবিত্র করিয়া না দিত । ইহাতে ষে দিগ্বিজয় বড়ই দুঃখিত ছিল, এমন নহে ; বরং এক দিন কোন দৈবকারণবশতঃ গিরিজায়া ঝাটা মারিতে ভুলিয়াছিল, ইহাতে দিগ্বিজয় বিষণ্ণবদনে গিরিজায়াকে গিয়া জিজ্ঞাসা করিল, “গিরি, আজ তুমি আমার উপর রাগ করিয়াছ না কি ?” বস্তুতঃ ইহারা যাবজ্জীবন পরমসুখে কালাতিপাত করিয়াছিল । হেমচন্দ্রকে নুতন রাজ্যে স্থাপন করিয়া মাধবা" চার্ষ্য কামরূপে গমন করিলেন । সেই সময়ে হেমচন্দ্র দক্ষিণ হইতে মুসলমানের প্রতিকুলত করিতে লাগিলেন। বখতিয়ার খিলিজি পরাভূত হইয়া কামরূপ হইতে দূরীকৃত হইলেন এবং প্রত্যাগমনকালে অপমানে ও কষ্টে তাহার প্রাণবিয়োগ হইল। কিন্তু সে সকল ঘটনার বর্ণনা এ গ্রন্থের উদেখা নহে । রত্নময়ী এক সম্পন্ন পাটনীকে বিবাহ করিয়া হেমচন্দ্রের নুতন রাজ্যে গিয়া বাস করিল । তথায় মৃণালিনীর অনুগ্রহে তাহার স্বামীর বিশেষ সৌষ্ঠব হইল। গিরিজায়া ও রত্নময়ী চিরকাল “সই” “সই” রহিল । মৃণালিনী মাধবাচার্য্যের দ্বার হৃষীকেশকে অনুরোধ করাইয়া মণিমালিনীকে আপন রাজধানীতে আনাইলেন । মণিমালিনী রাজপুরীমধ্যে মৃণালিনীর সৰ্থীস্বরূপ বাস করিতে লাগিলেন । তাহার স্বামী রাজবাটীর পৌরোহিত্যে নিযুক্ত হইলেন । শাস্তশীল যখন দেখিল যে, হিন্দুর আর রাজ্য পাইবার সম্ভাবনা নাই, তখন সে আপন চতুরতা ও কৰ্ম্মদক্ষভ দেখাইয়া যবনদিগের প্রিয়পাত্ৰ হইবার চেষ্টা করিতে লাগিল । হিন্দুদিগের প্রতি অত্যাচার ও বিশ্বাসঘাতকতার দ্বারা শীঘ্র সে মনস্কামনা সিদ্ধ করিয়া অভীষ্ট রাজকাৰ্য্যে নিযুক্ত হইল । সম্পূৰ্ণ