পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (প্রথম ভাগ).djvu/৩৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


OR এ দিকে অনেক বেলা হইল দেখিয়া কতিপয় রাজভৃত্য দ্রুতপদে র্তাহার অসুসন্ধানে চলিল। নীচে অবতরণকালে দেখিল, রাণার অশ্ব দাড়াইয়া 1. রহিয়াছে—ইহাতে তাহার বিস্মিত এবং চিস্তিত হইল। আশঙ্কা করিল যে, রাণার কোন বিপদ ঘটিয়াছে, নিয়ে শিলাখণ্ডোপরি অনন্ত ঠাকুর- বসিয়া আছেন, দেখিয়া তাহারা বিবেচনা করিল যে, এই ব্যক্তি অবশ্য কিছু জানিবে। সেই জন্য তাহার হস্তপ্রসারণ করিয়া সে দিকে দেখাইয়া দিতেছিল, কঁহাকে জিজ্ঞাসাবাদ করিবার জন্য তাহারা নামিতেছিল, এমন সময়ে ঠাকুরজী নারায়ণ স্মরণ পূৰ্ব্বক প্রস্থান করিলেন । তখন তাহারা ভাবিল, তবে এই ব্যক্তি অপরাধী । এই ভাবিয়া তাহারা পশ্চাদ্ধাবিত হইল। ব্রাহ্মণ এক গব্বরমধ্যে লুকাইয়া প্রাণ রক্ষা করিল। এ দিকে মহারাণা চঞ্চলকুমারীর পত্রপাঠ সমাপ্ত ও মাণিকলালকে বিদায় করিয়া অনন্ত মিশ্রের তল্লাসে গেলেন । দেখিলেন, সেখানে বাহ্মণ নাই— তৎপরিবর্তে ঠাহীর ভূত্যবর্গ এবং তাহার সমভিব্যাহারী অশ্বারোহিগণ আসিয়া অধিত্যকার তলদেশ ব্যাপ্ত করিয়াছে । রাণাকে দেখিতে পাইয়া সকলে জয়ধ্বনি করিয়া উঠিল । বিজয় প্রভুকে দেখিতে পাইয়া, তিন লম্ফে অবতরণ করিয়া তাহার কাছে দাড়াইল । রাণা তাহার পৃষ্ঠে আরোহণ করিলেন। তাহার বস্ত্র রুধিরাক্ত দেখিয়া সকলেই বুঝিল যে, একটা কিছু ক্ষুদ্র ব্যাপার হইয়। গিয়াছে। কিন্তু রাজপুতগণের ইহা নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার —কেক কিছু জিজ্ঞাসা করিল না । রাণা কহিলেন, “এইখানে এক ব্রাহ্মণ বসিয়াছিল, সে কোথায় গেল—কেহ দেখিয়াছিলে ?” যাহার উহার পশ্চাদ্ধাবিত হইয়াছিল, তাহারা বলিল, “মহারাজ ! সে ব্যক্তি পলাইয়াছে।” রাণী । শীঘ্র তাহার সন্ধান করিয়া লইয়। আইস । ভৃত্যগণ তখন সবিশেষ কথা বুঝিয় নিবেদন করিল যে, “আমরা অনেক সন্ধান করিয়াছি, কিন্তু *ाँझे नाँझे ” আশ্বারোহিগণমধ্যে রাণার পুত্রদ্বয়, তাহার জ্ঞাতি ও অমাত্যবর্গ প্রভৃতি ছিল। রাজা পুত্রদ্বয় ও অমাত্যবর্গকে নির্জনে লইয়া গিয়া কথাবাৰ্ত্ত বলিলেন । পরে ফিরিয়া আসিয়া আর সকলকে বলিলেন,— * “প্রিয়জনবর্গ ! আজি অধিক বেলা হইয়াছে ; তোমাদিগের সকলের ক্ষুধাতৃষ্ণ পাইয়াছে সন্দেহ নাই। কিন্তু আজ উদয়পুরে গিয়া ক্ষুধাতৃষ্ণানিবারণ বঙ্কিমচন্দ্রের গ্রন্থাবলী আর আমাদিগের দৃষ্টি নাই, এই পৰ্ব্বত্যপথে আবার জামাদিগকে 醬 ইতে হইবে। একটি ক্ষুদ্র লড়াই জুটিয়াছে-লড়াইয়ে যাহার সাধ থাকে, আমার সঙ্গে আইস-আমি এই পূৰ্ব্বত পুনরারোহণ করিব । যাহার সাধু না থাকে, উদয়পুরে ফিরিয়া যাও।” *५ - এই বলিয়া রাণী পৰ্ব্বত আরোহণে প্রবৃত্ত হইলেন । অমনি “জয় মহারাণাকি জয়, জয় মাতাজীকি জয় !" বলিয়া সেই শত অশ্বারোহী , র্তাহার পশ্চাতে পৰ্ব্বত আরোহণে প্রবৃত্ত হুইল। উপরে উঠিয়া “হর . হর ।” শব্দে রূপনগরের পথে ধাবিত হইল। অশ্বখুরের আঘাতে অধিত্যকায় ঘোরতর প্রতিধ্বনি হইতে লাগিল । সপ্তম পরিচ্ছেদ নিরাশা এ দিকে অনন্ত মিশ্র রূপনগর হইতে যাত্রা করার পরেই রূপনগরে মহাধুম পড়িয়াছিল। মোগল বাদশাহের দুই সহস্ৰ অশ্বারোহী সেনা রূপনগরের গড়ে আসিয়া উপস্থিত হইল । তাহারা চঞ্চলকুমারীকে লাইতে আসিয়াছে । নিৰ্ম্মলের মুখ শুকাইল ; দ্রুতবেগে সে চঞ্চলকুমারীর কাছে গিয়া বলিল, “কি হইবে সখি ?” চঞ্চলকুমারী মৃদু হাসি হাসিয়া বলিলেন, “কিসের কি হইবে ?” ● নিৰ্ম্মল । তোমাকে ত লইতে আসিয়াছে । কিন্তু এই ত ঠাকুরঙ্গী উদয়পুরে গিয়াছেন—এখনও তার পেছিবার বিলম্ব আছে । রাজসিংহের উত্তর আসিতে ন। আসিতেই তোমায় লইয়া যাইবে—কি হইবে সখি ? চঞ্চল । তার আর উপায় নাই—কেবল আমার সেই শেষ উপায় আছে । দিল্লীর পথে বিষভোজনে প্রাণত্যাগ - সে বিষয়ে আমি চিত্ত স্থির করিয়াছি । সুতরাং আমার আর উদ্বেগ নাই । একবার কেবল আমি পিতাকে অনুরোধ করিব—যদি মোগলসেনাপতি সাত দিনের অবসর দেন । চঞ্চলকুমারী সময়মত পিতৃপদে নিবেদন করিলেন যে, “আমি জন্মের মত রূপনগর হইতে চলিলাম । আমি আর কখন যে আপনাদিগের ইচরণ দর্শন করিতে পাইব, আর কখন যে বাল্যসখীগণের সঙ্গে আমোদ করিতে পাইব, এমন সম্ভাবনা নাই ।