পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (প্রথম ভাগ).djvu/৪৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8. 烹控-· 镜头 .জড়াগের জলের ন্যায় সেই অশ্বারোহিশ্রেণী প্রবাহিত শ্ৰেষ্টল ; বল্প দংশিত করিয়া, নাচিতে নাচিতে অশ্বশ্রেণী চলিল—আশ্বারোহীদিগের অন্ত্রের ঝঞ্চনা বাজিল । অশ্বারোহিগণ প্রভাতবায়ুপ্রফুল্ল হইয়া কেহ কেহ গান করিতেছিল । শিবিকার পশ্চাতেই ষে অশ্বারোহিগণ ছিল, তাহার মধ্যে অগ্রবত্তী এক জন গায়িতেছিল— “শরম্ ভরমসে পিয়ারী, সোমরত বংশীধারী, বুরত লোচনসে বারি ! ন সমঝে গোপকুমারী, যেহিন বৈঠত মুরারি, বিহারত রাহ তুমারি ” রাজকুমারীর কর্ণে সে গীত প্রবেশ করিল। তিনি ভাবিলেন, “হায়! যদি সওয়ারের গীত সত্য হইত।” রাজকুমারী তখন রাজসিংহকে ভাবিতেছিলেন। তিনি জানিতেন না ষে, আঙ্গুলকাটা মাণিকলাল র্তাহার পশ্চাতে এই গীত গায়িতেছিল । মাণিকলাল যত্ন করিয়া শিবিকার পশ্চাতে স্থান গ্রহণ করিয়াছিল । দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ নিৰ্ম্মলকুমারীর অগাধ জলে ঝাপ এ দিকে নিৰ্ম্মলকুমারীর বড় গোলমাল বাধিল ; চঞ্চল ত রত্নখচিত শিবিকারোহণে চলিয়া গেলআগে পিছে দুই সহস্ৰ কুমারপ্রতিম অশ্বারোহী আল্লার মহিমার শব্দে রূপনগরের পাহাড় পর্বনিত করিয়া চলিল । কিন্তু নিৰ্ম্মলের কান্না ত থামে না । একা—একা—একা, শত পৌরজনের মধ্যে চঞ্চল অভাবে নিৰ্ম্মল বড়ই একী ! নিৰ্ম্মল উচ্চ গৃহচূড়ার উপর উঠিয়া দেখিতে লাগিল—দেখিতে লাগিল, পাদক্রোশপরিমিত অজগর সৰ্পের ন্যায় সেই অশ্বরোহী সৈনিকশ্রেণী পাৰ্ব্বত্যপথে বিসর্পিত হইয়া উঠিতেছে, নামিতেছে--প্রভাতস্থৰ্য্যকিরণে তাহাদিগের উৰ্দ্ধোথিত উজ্জ্বল বর্শাফলকসকল জ্বলিতেছে । কতকক্ষণ নিৰ্ম্মল চাহিয়া রহিল । চক্ষু জালা করিতে লাগিল । তখন নিৰ্ম্মল চক্ষু মুছিয়া ছাদের উপর হইতে নামিল। নিৰ্ম্মল একটা কিছু ভাবিয়া ছাদের উপর হইতে নামিয়াছিল। নামিয়া প্রথমে অলঙ্কারসকল খুলিয়া কোথায় লুকাইয়া রাখিল, কেহ দেখিতে বঙ্কিমচন্দ্রের গ্রন্থাবলী পাইল না সঞ্চিত অধি কতিপয় মুদ্রা নিৰ্ম্মল গোপনে সংগ্ৰহ করিল । কেবল তাহাই লইয়৷ নিৰ্ম্মল একাকিনী রাজপুরী হইতে নিষ্ক্রান্ত হইল । পরে দৃঢ়পদে অশ্বারোহী সেনা যে পথে গিয়াছে, সেই পথে একাকিনী তাহদের অনুবৰ্ত্তিনী হুইল । তৃতীয় পরিচ্ছেদ রণপণ্ডিত মবারক বৃহৎ অজগর সৰ্পের ন্যায় ফিরিতে ফিরিতে, ঘুরিতে ঘুরিতে সেই অশ্বারোহী সেনা পাৰ্ব্বত্যপথে চলিল। যে রন্ধ্রপথের পাশ্বস্থ পৰ্ব্বতের উপর আরোহণ করিয়া মাণিকলাল রাজসিংহের সঙ্গে দেখা করিয়া আসিয়াছিল, বিবরে প্রবিশুমান মহোরগের দ্যায় সেই অশ্বারোহিশ্রেণী সেই রন্ধ্রপথে প্রবেশ করিল ৷ অশ্বসকলের অসংখ্য পদবিক্ষেপধ্বনি পৰ্ব্বতের গায়ে প্রতিধ্বনিত হইতে লাগিল । এমন কি, সেই স্থির শব্দহীন বিজন প্রদেশে আরোহীদিগের অস্ত্রের মৃত্যু শব্দ একত্র সমুথিত হইয়া রোমহর্ষণ প্রতিধ্বনির উৎপত্তির কারণ হইতে লাগিল । মাঝে মাঝে অশ্বগণের হুেষারব—আর সৈনিকের ডাকহঁাক । পৰ্ব্বততলে যে সকল লতাগুল্ম ছিল, শব্দাঘাতে তাহার পাতাসকল কঁাপিতে লাগিল । ক্ষুদ্র বন্য পশু, পক্ষী, কীট, যাহারা সে বিজন প্রদেশে নির্ভয়ে বাস করিত, তাহারা সকলে দ্রুত পলায়ন করিল। এইরূপে সমুদয় অশ্বারোহীর সারি সেই রন্ধ্রপথে প্রবেশ করিল। তখন হঠাৎ গুম্‌ করিয়া একট। বিকট শব্দ হইল । যেখানে শব্দ হইল, সে প্রদেশের অশ্বারোহীরা ক্ষণকাল স্তম্ভিত হইয়া দাড়াইল । দেখিল, পৰ্ব্বতশিখরদেশ হইতে বৃহৎ শিলাখণ্ড পৰ্ব্বভচ্যুত হইয়া সৈন্তমধ্যে পড়িয়াছে। চাপে একজন অশ্বারোহী মরিয়াছে, আর এক জন অস্থিত হইয়াছে । দেখিতে দেখিতে, ব্যাপার কি, তাহ কেহ বুঝিতে না বুঝিতে, আবার সৈন্যমধ্যে শিলাখণ্ড পড়িল—এক, দুই, তিন, চারি, ক্রমে দর্শ, পচিশ–তখনি একেবারে শত শত ছোট বড় শিলাবৃষ্টি হইতে লাগিল—বহুসংখ্যক অশ্ব ও অশ্বারোহী কেহ হত, কেহ আহত হইয়া, পথের উপর পড়িয়া সঙ্কীর্ণ পথ একেবারে রুদ্ধ করিয়া ফেলিল। অশ্বসকল আরোহী লইয়া পলায়নের জন্য বেগবান হইল—কিন্তু অগ্রে পশ্চাতে পথ সৈনিকের ঠেলাঠেলিতে অবরুদ্ধ—অশ্বের উপর অশ্ব, আরোহীর