পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (প্রথম ভাগ).djvu/৬৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


=ા છે =<ક অগ্নির উৎপাদন প্রথম পরিচ্ছেদ আরণিকাষ্ঠ—উৰ্ব্বশী রাজসিংহ যে তীব্ৰঘাতী পত্র ঔরঙ্গজেবকে লিথিয়াছিলেন, তৎপ্রেরণ হইতে এই অগ্ন্যুৎপাদন খণ্ড আরম্ভ করিতে হইবে। সেই পত্র ঔরঙ্গজেবের কাছে কে লইয়া যাইবে, তাহার মীমাংসা কঠিন হইল । কেন না, যদিও দূত অবধ্য, তথাপি পাপে কুষ্ঠাশূন্ত ঔরঙ্গজেব অনেক দূত বধ করিয়াছিলেন, ইহা প্রসিদ্ধ । অতএব প্রাণের শঙ্কা রাখে, অস্ততঃ এমন সুচতুর নয় যে আপনার প্রাণ বঁাচাইতে পারে, এমন লোককে পাঠাইতে রাজসিংহ ইচ্ছুক হইলেন না। তখন মাণিকলাল আসিয়া প্রার্থনা করিল যে, আমাকে এই কার্য্যে নিযুক্ত করা হউক । রাজসিংহ উপযুক্ত পাত্ৰ পাইয়া তাহাকেই এই কার্য্যে নিযুক্ত করিলেন । এ সংবাদ শুনিয়া চঞ্চলকুমারী নিৰ্ম্মলকুমারীকে ডাকিলেন । বলিলেন, “তুমিও কেন তোমার স্বামীর সঙ্গে যাও না ?” নিৰ্ম্মল বিস্মিত হইয়া বলিল, “কোথা যাব ? দিল্লী ? কেন ?” চঞ্চল । একবার বাদশাহের রঙমহালটা বেড়াইয়া আসিবে । নিৰ্ম্মল। শুনিয়াছি, সে না কি নরক । চঞ্চল ; নরকে কি কখন তোমায় যাইতে হইবে না ? তুমি গরীব বেচারা মাণিকলালের উপর ষে দৌরাত্ম্য কর, তাহাতে তোমার নরক হষ্টতে নিস্তার नाहे । নিৰ্ম্মল । কেন ? চঞ্চল । সে বুঝি তোমায় গাছতলায় মরিয়া পড়িয়া থাকিতে সাধিয়াছিল ? নিৰ্ম্মল । আমি ত আর তাকে ডাকি নাই । এখন সে ভূতের বোঝা বহিয়া দিল্পী গিয়া কি করিব, বলিয়া দাও । ཐཱ་སི་" উদিপুরীকে নিমন্ত্রণপত্ৰ দিয়া আসিতে l কেন, সুন্দর দেখে বিয়ে করেছিল নিৰ্ম্মল । কিসের ? চঞ্চল। তামাকু সাজার । নিৰ্ম্মল । বটে, কথাটা মনে ছিল না । পুথিবীশ্বরী তোমার পরিচর্য্যা না করিলে তোমারও ভূতের বোঝা মিলিবে না । - চঞ্চল। দুর হু পাপিষ্ঠ ! আমিই এখন ভূতের বোঝা । হয়, বাদশাহের বেগম আমার দাসী হইবে--নহিলে আমাকে বিধ খাইতে হইবে গণকের ত এই গণনা । নিৰ্ম্মল। তা পত্র দ্বারা নিমন্ত্রণ করিলেই কি বেগম আসিবে ? চঞ্চল । না, আমার উদ্দেগু বিবাদ বাধান । আমার বিশ্বাস, বিবাদ বাধিলেই মহারাণার জয় হইবে । আর বেগম বাণী হইবে । আর উদ্দেশু, তুমি বেগমদিগকে চিনিয়া আসিবে । নিৰ্ম্মল । তা কি প্রকারে এ কাজ পারিব, বলিয়া দাও । চঞ্চল । আমি বলিয়া দিতেছি । তুমি জান যে, যোধপুরা বেগমের পাঞ্জাটা আমার কাছে আছে। সেই পাঞ্জ তুমি লইয়া যাও । তাহার গুণে তুমি রঙমহালে প্রবেশ করতে পারিবে এবং তাহার গুণে তুমি ষোধপুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করিতে পারিবে । তাহাকে সবিশেষ বৃস্তান্ত বলিবে । আমি উদিপুরীর নামে শে পত্র দিতেছি, তাহা তাহাকে দেখাইবে । তিনি ঐ পত্র কোন প্রকারে উদিপুরীর কাছে পাঠাইয়া দিবেন। যেখানে নিজের বুদ্ধিতে কুলাইবে না, সেখানে স্বামীর বুদ্ধি হইতে কিছু ধার লইও । নিৰ্ম্মল। ইঃ ! আমি যাই মেয়ে, তাই তার সংসার চলে ! হাসিতে হাসিতে নিৰ্ম্মলও পত্র লইয়া চলিয়া গেল এবং যথাকালে স্বামীর সঙ্গে, উপযুক্ত লোকজন সমভিব্যাহারে দিল্লীষাত্রার উদ্যোগ করিতে লাগিল।