পাতা:বঙ্গদর্শন নবপর্যায় তৃতীয় খণ্ড.djvu/৪০৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

8 eఫ్చి সন্দেহের কারণগুলিকে হেমনলিনী যত প্রাণপণ বলে তাহার ৰিশ্বাসের ছর্গের মধ্যে ঢুকিতে দেয় না—তাহারা বাহিরে দাড়াইয়া ততই সবলে আঘাত করিতে থাকে। সাংঘাতিক আঘাত হইতে ম৷ যেমন ছেলেকে বুকের মধ্যে দুই হাতে চাপিয়া-ধরিয়া রক্ষা করে, রমেশের প্রতি বিশ্বাসকে হেমনলিনী সমস্ত প্রমাণের . বিরুদ্ধে তেমনি জোর করিয়া হৃদয়ে আঁক্‌ড়িয়া রাখিল । কিন্তু হায়, জোর কি সকল সময় সমান থাকে । . হেমনলিনীর পাশের ঘরেই রাত্রে অল্পদাবাবু গুইয়াছিলেন । হেম যে বিছানায় এপাশওপাশ করিতেছিল, তাহ তিনি বুঝিতে পারিতেছিলেন। একএকবার তাহার ঘরে গিরা তাহাকে বলিতেছিলেন, “মা, তোমার ঘুম হইতেছে না ?” হেমনলিনী উত্তর দিতেছিল, “বাবা, তুমি কেন জাগিয়া আছ ? আমার ঘুম আসিতেছে আমি এখনি ঘুমাইয়। পড়িব ।” : পরের দিন ভোরে উঠিয়া হেমনলি ছাদের উপর বেড়াইতেছিল । রমেশের বাসার একটি দরজা, একটি জানলাও খোল। নাই । হেমনলিনীর মনে হইতে লাগিল, তাহার জীবন হইতেও রমেশ যেন এমনিভাবেই রুদ্ধ হইয়া গেছে । পরস্পরের সম্বন্ধের কোন পথই যেন কোথাও খোলা নাই । তবে এখন হইতে কোন পথ অবলম্বন করিয়া তাহার অস্তরের মধ্যে আকাশের আলোক আসিবে, দক্ষিণের বাতাস প্রবেশ করিবে ? রমেশ–রমেশ —কোথায় রমেশ ! যে এতই কাছে ছিল, সে কোথায় গেল : যে অনায়াসে वॅक्लफ़्ब्षॆन ! ৩য় বধ, পৌৰ । এই প্রভাতের স্নিগ্ধ আলোকে ঐ ছাদের উপয়ে আসিয়া টাড়াইতে পারে—যাহার আগমনে আনন্দিত হৃদয়ের মত ঐ বাড়ীর সমস্ত জানলা-কবাট উন্মুক্ত হইয়। গৃহের মধ্যে শুভপ্রভাতকে অভ্যর্থনা করিয়া লইতে পারে— সে সমস্ত বাধা দুইহাতে ঠেলিল্লা-ফেলিয়া কেন এখনি আসিতেছে না ? তাহার জন্ত সমস্ত প্রস্তুত—তাহার জন্তু সবাই অপেক্ষ। করিতেছে—তাহারই জন্ত হেমনলিনী তিক্ষুকেয় উদ্ধ প্রসারিত ব্যাকুলবাহুর মত আপনার সমস্ত হৃদয়কে আজ এই অরুণরাগরক্ত অনস্ত আকাশের মাঝখানে উত্তোলিত করিয়া ধরিয়াছে —এস, এস, এস ! সমস্ত কুয়াস কাটাইয়া, সমস্ত মেঘ ঠেলিয়া, সমস্ত অন্ধকার পার হইয়। শিশিরাশ্র"cধীত প্রভাতের আলোকটির মত এস—এখনি একমুহূৰ্ত্তে হেমনলিনীর সমস্ত উৎসুক জীবনকে, উন্মুখ জগৎকে ব্যাপ্ত করিয়া ফেল ! স্বৰ্য্য ক্রমে পুৰ্ব্বদিকের সৌধশিখরমালার উপরে উঠিয়া পড়িল । হেমনলিনীর কাছে আজিকার এই নুতন-অভূদিত দিনটি এমনি শুষ্ক-শূন্ত, এমনি আশাহান-আনন্দইiন ঠেকিল যে, সে সেই ছাদের এক কোণে প্রসিয়াপড়িয়। দুই হাতে মুখ ঢাকিয়। কাদিয়া উঠিল । আজ সমস্তদিন কেহই আসিবে না, চায়ের সময় কাহাকেও আশা করিৰার নাই, পাশের বাড়ীতে কেহ একজন আছে, এই কল্পনা করিবার স্থখটুকু পর্য্যন্ত ঘুচিরা গেছে : “হেম ! হেম !” 曾 হেমনলিনী তাড়াতাড়ি উঠিয়া - চোখ মুছিয়া-ফেলিয়া সাড়া দিল – “কি বাৰ !” অল্পদাবাৰু ছাদে উঠিয়া-আলিয়া হেমন্সলি