পাতা:বঙ্গদর্শন নবপর্যায় তৃতীয় খণ্ড.djvu/৪৫৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

36:8 বঙ্গদশন । [ ৩য় বর্ষ, মাঘ এরে আমি মোর হীন অস্তরের কালিমাখা মেঘে ঢাকিয় ফেলেছি কিরে ?” হানে বক্ষ নিদারুণ বেগে । চকিত নয়ন স্থির, দুই ৰাহু ছলে স্পনাহীন দাড়াইয়া রহে নারী পুত্তলিকা যেন চিত্রলীন ! میه মৰ্ম্মে বাজে হাহাকার বিশ্বজোড়া বিয়াকুলধবনি— “হায় হায় কি করিমু!—কি করিমু —জগতের মণি কোন মহাব্ৰতজনে পথচ্যুত করিলাম আমি।” হৃদয়-ক্ৰন্দন-সনে বাহিরের ঝঞ্জাময়ী যামি’— স্বর মিলাইয়া দিল---আস্বিকা তাহাই শুনে কানে— দাড়ায়ে নিম্পন্দদেহ—মূৰ্ত্তি যেন অঙ্কিত পাষাণে । “কি করিমু !—কি করিমু ! হে তরুণ যতি মনোহর— মোর বাসনার টান লাগিছে কি তব হিয়া’পর ? কি করিন্থ !—কি করিঙ্গ ! হায়, আমি কেমনে আমায়, দিব তব পদতলে ?—এ ষে হিয়া ভস্ম লালসায় !" অম্বিকা দাড়ায়ে রহে—হেথা শাস্ত হ’য়ে এল ঝড়, আর না.ডাকিল বায়ু-শিথিল বরষা ঝরঝর— শীতল পরশে কোন, ধীরে ধীরে এল জুড়াইয়া অম্বিকার হিয়াতল—কহিল সে কাদিয়া কঁাদিয়া— “কোথা ? দেব, কোথা ফুল ? যেতে হ’ল ফিরে যেতে হ’ল— অাজ ফিরে যাও যতি সাব অামি তব পদতল । ফুল-ফুটাইব আমি এ হৃদয়ে বিজন সাধনে— এ হৃদয়পুষ্প ল’য়ে সেইদিন যাব আরাধনে ৷” অশ্বিকা দাড়ায়ে র’ল—পদতলে ধরণী তাহার আর ন৷ টলিছে যেন !—খুলি’ পড়ে কেশ বালিকার ! বরষা থামিয়া গিয়া এক বায়ু জাগিল তখন, দ্বার খুলি অম্বিকার যজ্ঞবহুি নিভাল পবন । অন্ধকারে এলোমেলে উড়ে তার কুন্তল-অঞ্চল দু'চোখে দ্বিগুণ ধারে অস্বিকার বাহিরিছে জল ! শ্ৰীসতীশচন্দ্র রায় ।