পাতা:বঙ্গদর্শন নবপর্যায় তৃতীয় খণ্ড.djvu/৪৭৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

দল্লম সংখ্যা । ] - মুক্তি । . . 8૧૦ তীর্ণ হইয়া ম্লেচ্ছনিবহু নিধন করিয়া সনাতন- যীশুর জন্মের প্রায় পাচশত বৎসর পূৰ্ব্বে । ধৰ্ম্মের প্রতিষ্ঠা করিবেন, এইরূপ আমাদের ভারতবর্ষে গৌতমৗসিদ্ধার্থের জন্ম হইয়াছিল। পুরাণে ভবিষ্যদ্বাণী রহিয়াছে । ইহুদিদিগেরও সেইরূপ অাশা ছিল, মেশায়া জন্মগ্রহণ করিলে তাহাদিগের জাতীয় দুরবস্থার তাপনোদন হইবে। অপেক্ষাকৃত আধুনিক সময়ে ইহাদিগের মধ্যে প্রফেট নামে একশ্রেণীর লোক প্রচুর সন্মানভাজন হইয়াছিলেন । ইহাদের মধ্যে কেহ কেহ ভাবী মেশায়ায় অন্তান্ত গুণ ও অন্তান্ত কৰ্ত্তব্য আপণ করিতেন । কিন্তু সাধারণ ইহুদিজাতির বিশ্বাস তাহাতে অধিক পরিবৰ্ত্তিত হইয়াছিল বলিয়া বোধ হয় না । কাজেই যখন মেরীপুত্র যীশু জন্মগ্রহণ করিয়া আপনাকে খ্ৰীষ্ট ও মেশায়া বলিয়া প্রচার করিলেন, অথচ ইহুদিজাতির আকাঙ্ক্ষিত জাতীয় দুঃখের অবসান হইল না, তখন অধিকাংশ ইহুদি র্তাহাকে মেশায়া, বলিয়া স্বীকার করিল না । ইহুদিদের মধ্যে কেহ কেহ উহা স্বীকার করিয়া একটা দল বাধিল মাত্র । তৎপরে তাহার শিষ্যগণ র্তাহার . ঈশ্বরত্ব ও তাহার ত্রাণকর্তৃত্ব ইহুদিসমাজের বাহিরে প্রচায়িত করিয়া বৃহৎ খ্ৰীষ্টানসমাজের স্থাপনা করিলেন । এই খ্ৰীষ্ট্ৰীয়সমাজ উনিশশত বৎসর ধরিয়া যীশুখ্ৰীষ্টকে মনুষ্যজাতির ত্ৰাণকৰ্ত্তা ও পাপমোচনকৰ্ত্ত বলির বিশ্বাস করিয়া আসিতেছে । র্তাহাকে ত্রাণকর্তা বলা যাইতে পারে, কিন্তু মুক্তিদাতা বলা ধায় না । কেন না, আমাদের দর্শনশাস্ত্রে বাহাকে মুক্তি বলে, খ্ৰীষ্টানের সেরূপ মুক্তি প্রার্থনা করেন না । সেরূপ মুক্তি খ্ৰীষ্টানের .*ां८क्ष योद्धझ कि नl, खोनि ब्धा । তিনি একটা দেশব্যাপী সন্ন্যাসীর দল সৃষ্টি করেন, ও তভিন্ন গৃহস্থলোকেও দলে দলে তাহার সম্মত উপাসকশ্রেণীতে ভুক্ত হইয়াছিল। গৌতমসিদ্ধার্থ অনেক সাধনার পর আপনাকে বুদ্ধ অর্থাৎ নিৰ্ব্বাণপ্রাপ্ত পুরুষ বলিয়া প্রচারিত করিয়াছিলেন, এবং তিনি যাহা নিৰ্ব্বগণের একমাত্র পন্থা বলিয় নিশ্চয় করেন, মানবজাতির নিকট সেই পন্থার নির্দেশ করিয়া যান। মানবজাতির দুঃখদর্শনে তাহার হৃদয় ব্যথিত হইয়াছিল ; তাহার প্রদর্শিত নিৰ্ব্বাণের পথ মানবজাতির সেই সনাতন দুঃখ দূরীকরণের একমাত্র উপায় বলিয়া তিনি প্রকাশ করেন । সেই ছঃখের ব্যথায় র্তাহার হৃদয় দ্রবীভূত হইয়াছিল এবং তিনি সেই দুঃখমোচনের উপায় আবিষ্কারের জন্ত রাজ্যসম্পৎ ত্যাগ ও ভিক্ষুবৃত্তি গ্রহণ করিয়া দেশে দেশে পরিব্রাজকরূপে বেড়াইয়াছিলেন। তিনি যে নিৰ্ব্বাণের পথ নির্দেশ করেন, তাহা ব্রাহ্মণশাস্ত্রসন্মত মুক্তির পথ হইতে অধিক ভিন্ন নহে । তাহার নির্দিষ্ট নিৰ্ব্বাণকে আমরা মুক্তির সহিত এক পৰ্য্যায়ে গ্রহণ করিলে অধিক দোষ হইবে না । কিন্তু এই নিৰ্ব্বাণ বা এই মুক্তি কোন ব্যক্তিবিশেষের অনুগ্রহলভ্য নহে। এমন কি, স্বয়ং ঈশ্বরও ইচ্ছাক্রমে বা অনুগ্রহদ্বার মনুষ্যকে মুক্ত করিতে পারেন না । ভগবান গৌতমবুদ্ধ এইরূপ মনুষ্যভাগ্যবিধাতা কোন ঈশ্বরের অস্তিত্বে আদেী বিশ্বাস করিতেন কি না, তাহাই সন্দেহের স্থল। বৌদ্ধমতে মন্ত্রব্য আপনার কৰ্ম্মফল ভোগ করিতে