পাতা:বঙ্গদর্শন নবপর্যায় তৃতীয় খণ্ড.djvu/৫২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

প্রথম সংখ্যা । ] সার সত্যের অালোচনা । _ . 8이 আক্রমণের উপর আক্রমণ আরম্ভ করিতেছে । এমন-সময় দেবদত্তের একজন পুরাতন বন্ধু সেই পথ দিয়া যাইতেছিলেন–তিনি দেবদত্তকে দেখিয়া মহা-আনন্দ প্রকাশ করিয়া তাহাকে আপন অলিয়ে লইয়া গেলেন । দেবদত্ত সেখানে গিয়া চির-পরিচিত বন্ধুবর্গের মাঝখানে স্বাধীনতার স্বর্গ হাত বাড়াইয়। পাইলেন—মনের সুখে ঘুমাইয়া বঁচিলেন। দেবদত্তের যাত্রারম্ভ হইতে বন্ধুভবনে উপনীত হওয়া পর্যন্ত র্তাহার স্বাধীনতা-বোধের পথের সমাচার যদি জিজ্ঞাসা কর, তবে তাহা এই ঃ– স্বাত্রাকালে দেবদত্ত আপন শরীরে বলের স্ফৰ্ত্তি এবং মনে আনন্দের স্ফূৰ্ত্তি প্রচুরপরিমাণে অনুভব করিয়াছিলেন। স্ফক্তিই অনুভব করিয়াছিলেন—ম্বৰ্ত্তির বাধা অনুভব করেন নাই । তিনি তখন মনে করিয়াছিলেন যে, আমার এ স্কৃত্তি বাহিরের কোনো কিছুর বশতাপন্ন নহে--ইহারই নাম স্বাধীনতাবোধ । দেবদত্তের এই প্রথম উদ্যমের স্বাধীনতা-বোধের প্রধান কারণ---শরীরের স্বাস্থ্য । শরীর যদি কোনো অংশে অনুস্থ হয়, তবে যে অংশে তাহ অসুস্থ, সেই অংশে তাহ দেহী ব্যক্তির পর ৷ পক্ষান্তরে, সম্পূর্ণ স্বস্থ শরীর দেহী ব্যক্তির আপনার তো বটেই —ত ছড়ি তাহ একপ্রকার দ্বিতীয় আপনি । শরীর সম্পূর্ণ সুস্থ হইলে, শরীর আছে এবং আমি ত্মাছি, এ দুয়ের ভিন্নতাবোধ থাকে না । মুস্থ শরীর দেহী ব্যক্তির দ্বিতীয় আপনি বলিয়া—সুস্থ শরীরের পরিধির মধ্যে দেহী ব্যক্তি একপ্রকার সহজ স্বাধীনতা অনুভব করে। এই যে সহজ স্বাধীনতা, ইহার মধ্যে আছি’র সহিত আছি”বু ঐক্য কোনখানটায়, তাহ যদি জিজ্ঞাসা কর, তবে তাহার ঠিকান পাওয়া যাইতে পারে এইরূপে – ' দেহী ব্যক্তি দেহ-বোধের এপারে থাকিয়া বলিতেছে যে, আমি আছি এবং অামার দেহ আছে । দেহী ব্যক্তি যে বলিতেছে “আমি আছি”, এইটিই দেহী ব্যক্তির হওয়া- . কথা ; পক্ষান্তরে—“দেহ আছে”, এটা দেহী ব্যক্তির দেখা-কথা ; দেহী ব্যক্তির এই দেখাকথা ব্যতীত— দেহের নিজের একটি হওয়া কথা আছে । কেন না, দেহ একপ্রকার অশাব্দিক ভাষায় বলিতেছে যে, আমি আছি ; আর দেহী শান্ধিক ভাষায় তাহার অনুবাদ করিয়া বলিতেছে যে, দেহ আছে । এখন বক্তব্য এই যে, একদিকে অশাদিক ভাষায় দেহ বলিতেছে আমি আছি, এবং আর-একদিকে শাব্দিক ভাষায় দেহী বলিতেছে আমি আছি ; এই যে দুই দিকের দুই আছি—সুস্থ-শরীরে এই দুই অাছি এক আছি”রই সামিল হইয়া দাড়ায় ; কাজেই —এ-আাছি ও-অাছি-কর্তৃক বাধাপ্রাপ্ত হয় না ; আর, বাধাপ্রাপ্ত হয় না বলিয়া দেহী ব্যক্তি স্বাধীনতা অনুভব করে। . এইরূপে দেহ-আত্মা ( যাহার শাস্ত্রীয় নাম ভূতাত্মা ) এবং দেহি-আত্মা ( যাহার শাস্ত্রীয় নাম বিজ্ঞানাত্মা ) এই দুই আত্মা যখন একাত্মা হইয়া যায়, তখন সেই একাত্মভাব, হইতে একপ্রকার অবাধিত স্ফৰ্ত্তি জন্মগ্রহণ করে ; আর, দেহু-দেহীর সেই যে একাত্ম-ভাব, তাহাই এখানে; দেহের এপিটের আছি’র