পাতা:বঙ্গদর্শন নবপর্যায় তৃতীয় খণ্ড.djvu/৫২০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

দশম সংখ্যা । ] না, কেবল তোমার ইচ্ছায় অামার ইচ্ছাকে বিলীন করিব ; কোনো বিচার করিব না, কেবল তোমার সেই আনন্দে আমার প্রেমকে নিমগ্ন করিয়া দিব, যে— “জানন্দাদ্ধোব খৰিমানি ভূতানি জায়স্তে, আনন্দেন छांऊानि औषखि, श्रांमन्म९ अग्रखि श्रडिनशबिभछि ।” ঐ দেখিতেছি, তোমার মহাস্ককার রূপের মধ্যে বিশ্বভুষনের সমস্ত আলোকপুঞ্জ কেবল বিন্দু-বিন্দু-জ্যোতীরূপে একত্র সমবেত হইয়াছে । দিনের বেলায় পৃথিবীর ছোট ছোট চাঞ্চল্য, আমাদের নিজকৃত তুচ্ছ আন্দোলন আমাদের কাছে কত বিপুল-বৃহৎ রূপে দেখা দেয় –কিন্তু আকাশের ঐ যে নক্ষত্ৰসকল, যাহাদের উদাম বেগ আমরা মনে ধারণাই করিতে পারি না, যাহাঁদের উচ্ছসিত আলোকতরঙ্গের আলোড়ন আমাদের কল্পনাকে পরাস্ত করিয়া দেয়,—তোমার মধ্যে তাহাদের সেই প্রচও আন্দোলন ত কিছুই নহে, তোমার অন্ধকার বসনাঞ্চল তলে, তোমার অবনত স্থিরদৃষ্টির নিম্নে তাহার স্তম্ভপাননিরত স্বগুশিশুর মত নিশ্চল, নিস্তব্ধ। তোমার বিরাটু ক্রোড়ে তাহাদের অস্থিরতাও স্থিরত্ব, তাহাদের দুঃসহ তীব্রতেজ মাধুর্য্যরূপে প্রকাশমান । ইহ। দেখিয়। এ রাত্রে আমার তুচ্ছ চাঞ্চল্যের আস্ফালন, আমার ক্ষণিক তেজের অভিমান, “আমার ক্ষুদ্র দুঃখের আক্ষেপ, কিছুই আর থাকে না,— তোমার মধ্যে আমি সমস্তই স্থির করিলাম, সমস্ত আবৃত করিলাম, সমস্ত শাস্ত করিলাম, তুমি আমাড়ক গ্ৰহণ কর—আমাকে রক্ষা কর,— “ষত্তে দক্ষিণং মুখং তেন মাং পাছি নিত্যম।" দিন ও রাত্রি । ¢ »ማ আমি এখন তোমার নিকট শক্তি প্রার্থন করি না, আমাকে প্রেম দণও ; আমি সংসারে জয়ী হইতে চাহি না, তোমার নিকট প্রণত হইতে চাই ; আমি স্থখহঃখকে অবজ্ঞা করিতে চাহি না, সুখদুঃখকে তোমার মঙ্গলহস্তের দান বলিয়া বিনয়ে গ্রহণ করিতে চাই। মৃত্যু যখন আমার কৰ্ম্মশালার দ্বারে দাড়াইয়া নীরবসঙ্কেতে আহবান করিবে, তখন যেন তাহার অঙ্গুসরণ করিয়া, জননি, তোমার অন্তঃপুরের শাস্তিকক্ষে নিঃশঙ্কহৃদয়ের মধ্যে আমি ক্ষমা লইয়া যাই,—প্রীতি লইয়। ঘাই,—কল্যাণ লইয়া যাই,—বিরোধের সমস্ত দাহ যেন সেদিন সন্ধ্যাহ্মানে জুড়াইয়া যায়, সমস্ত বাসনার পঙ্ক যেন ধৌত হয়, সমস্ত কুটিলতাকে যেন সরল, সমস্ত বিকৃতিকে যেন সংস্কৃত করিয়া যাইতে পারি । যদি সে অবকাশ না ঘটে, যদি ক্ষুদ্রবল নিঃশেষিত হইয়া যায়, তবু তোমার বিশ্ববিধানের উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করিয়া যেন দিন হইতে রাত্রে, জীবন হইতে মৃত্যুতে, আমায় অক্ষমতা হইতে তোমার করুণার মধ্যে একান্তভাবে আত্মবিসর্জন করিতে পারি । ইহা যেন মনে রাখি—জীবনকে তুমিই আমার প্রিয় করিয়াছিলে, মরণকেও তুমিই আমার প্রিয় করিবে,—তোমার দক্ষিণহস্তে তুমি আমাকে সংসারে প্রেরণ. করিয়াছিলে, তোমার বামহস্তে তুমি আমাকে ক্রোড়ে আকর্ষণ করিয়া লইবে,—তোমার আলোক আমাকে শক্তি দিয়াছিল, তোমার অন্ধকার অামাকে শান্তি দিবে। ও শাস্তিঃ শাস্তিঃ শাস্তিঃ ।