পাতা:বঙ্গদর্শন নবপর্যায় তৃতীয় খণ্ড.djvu/৫৩৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

(రి 8 যাহার ব্রাহ্মনাম ধারণ করেন নাই, তাহীদের মধ্যে অনেকেই প্রীতির দ্বারা, ভক্তির দ্বারা, মঙ্গলকৰ্ম্ম দ্বারা, একাগ্রনিষ্ঠা দ্বারা, পবিত্রজীবনের দ্বারা সংসারের মধ্যে ব্রহ্মকে সত্যভাবে স্বীকার ও উপলব্ধি করিতেছেন । অতএব সম্প্রদায়বিশেষের মধ্যে - অাছি বলিয়াই স্বাতন্ত্রrজনিত যে একটা কৃত্রিম দম্ভ উপস্থিত হয়—যে দন্ত সত্য হইতে, ব্ৰহ্ম হইতে আমাদিগকে নিরস্ত করে, সেই দত্ত হইতে যেন আপনাদিগকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখিতে পারি—এবং চতুর্দিকের সকলের মধ্যে ব্রহ্মের ঐক্যযোগে অকুষ্ঠিতহৃদয়ে প্রবেশাধিকার লাভ করি—সকলকেই যেন বুঝিতে পায়ি— কোথাও যেন আমাদের বাধা না থাকে । বিরোধের ভাবের মধ্যেক্ট ভিত্তি নিহিত করিয়া ব্রাহ্মসমাজ দাড়াইয়া আছে বলিয়৷ অতিসতর্কতাবশত সৰ্ব্বদা তাহাকে শঙ্কান্বিত হইয়া থাকিতে হইয়াছে । এটা ব্রাহ্মমতের বিরোধী, ওট। পৌত্তলিকতার এইরূপ বাচবিচার করিতে করিতে সে আপনাকে এমন সঙ্কীর্ণতার মধ্যে বাধিয়াছে エ。 আপনাকে কৃশ করিয়া, লারস করিয়৷ আনয়াছে । ইহা নয়, ইহা নয়’ বলিয়; কেবলি বর্জন করিয়া করিয়া ব্ৰাহ্মসমাজের ধৰ্ম্মকে কেবল “নেতি’ত্ব প্রধান কঙ্কণ লমাত্র করিয়৷ তুলিলে, তাহ আমাদের হৃদয়কে তৃপ্ত করিতে পারে না—তাহার ‘ক্টতি হু-অণশ অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত--- তাহ বর্ণগন্ধরসবিরল। এই শুষ্কতা অনুভব করিয়া তুষাৰ্ত্তচিত্ত্বে আমি অদ্য সেই ব্রহ্মের উপাসনা প্রার্থনা করি—গিনি রূপরসকে পরিহায় করেন না, সমস্ত রূপরসই যাহার অন্তর্গত-সমস্তকেই যিনি আবৃত গন্ধfবশ্লিষ্ট, t বঙ্গদর্শন । [ ৩য় বর্ষ, ফাঙ্কন করিয়া আছেন । অগ্নি-বায়ু-জল-চন্দ্র-স্বৰ্য্য বৈদিক ঋষিদের হৃদয়তন্ত্রীতে প্রতিক্ষণে ভক্তির সামগtথ নানা স্বরে ধবনিত করিয়া তুলিয়াছিল । তাহার এই পরমবিস্ময়রসাবহ বিশ্বজগৎকে জড়পিও বলিয়া দেখেন নাই । ইহার বিরাটু প্রাণ র্তাহীদের প্রাণকে স্পশ করিয়ছে, বিশ্বের আত্ম। তাহীদের আত্মীকে আহবান করিয়াছে । আমরা এই আশ্চর্য্য নিখিলের মধ্যে, এই অনিৰ্ব্বচনীয় রহস্যপুঞ্জের মধ্যে এমনভাবে সঞ্চরণ করিতেছি, যেন কোথা ও মহিম। কিছুই নাই । যেন ব্রহ্মকে কেবল স্বরচিত বাক্যের মধ্যে, স্বপ্রতিষ্ঠিত শুষ্ক ভিত্তিচতুষ্টয়ের মধ্যে ছাড়া আর কোথাও ভক্তি করিবার নাই । ইহাতে যে নম্রতাবিহীন শুষ্কতার চর্চা করা হয়, তাহীতে “রসে৷ বৈ সঃ” সেই রসসমুদ্রের মাঝখানে থাকিয়া ও আমাদের হৃদয় উদ্ধত, কঠিন, আমাদের জীবন সঙ্কীর্ণ এ নিস্ফল হইতে থাকে । আমরা যেন অগ্নিকে, জলকে, ওষধিবনস্পতিকে শূন্ত বলিয়। জ্ঞান না করি, আমর। যেন এই বিশ্ব ভুবনপে প্রাণের দ্বার, আয়ার দ্বার, বিস্ময়ের দ্বার, ভক্তির দ্বার সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করিতে পারি, তাহাকে আমাদের জ্ঞানের এক শুক্ষকোণে না ফেলিয়া রাখি তাহাকে ঈশ। বাস্ত”– তাহাকে রহ্মের দ্বার আচ্ছন্ন করিয়। দেখিতে পায়ি । একদিন দেখিয়াছিলাম, একজন ক্লাস্ত কৃষক দ্বিপ্রহর-রৌদ্রে “মা” বলিয়া নদীর জলে অবগাহন করিয়াছিল। তাহার সেই উচ্ছসিত মাতৃসম্বোধন আমার কাছে তৎক্ষণাৎ অত্যন্ত সত্য বলির প্রতীত হইয়াছিল । ইহা কল্পনা নহে, রূপক নহে—যিনি সত্যই