পাতা:বঙ্গবিজেতা.djvu/১০২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

పిy ৰঙ্গবিজেত,। "ভনিনি। পৃথিবীতে তোমা অপেক্ষা হতভাগিনী আছে। তোমার স্নেহময়ী মাতা আছেন, জগৎসংসারে থাকিবার স্থান আছে, হৃদয়েশ্বর জীবিত আছেন, তোমার আশা-ভরসা সকলেই আছে । কিন্তু পৃথিবীতে এরূপ হতভাগিনী আছে যাহার কিছুমাত্র নাই, যাহার ভবিষ্যতের আশা মাই, অতীতের স্থতি নাই, ইহজন্মে কেহ নাই, সংসারে মুখ নাই, কেবল অতুল চিন্তাজলে ভাসিতেছে।” সরল কিঞ্চিৎ লজ্জিত হইল, বলিল, “দিদি, তোমার কথা ভাবিলে আমি আপন দুঃখ ভুলিয়া যাই, তুমি কিরূপে এত সহ কর " কম । “বিধাতা সহ করিবার জন্তই নারীজন্ম দিয়াছেন। পুরুষে যত সহ করিবে, আমরা তাহার দশ গুণ সহ করিব।” সর । “ যদি না পারি ?” কম । * তষে নারীজন্ম গ্ৰহণ করিলে কেন ? দেখ, মনুষ্যের মানসন্ত্রম আছে, ধনসম্পত্তি আছে, কুলমৰ্য্যাদা আছে, নামগৌরব আছে, জীবনের সহস্র ভিন্ন ভিন্ন অবলম্বন আছে, সহস্র মুখের কারণ আছে, একটী না হইলে অম্ভট অন্বেষণ করিতে পারে, সেট না পাইলে অপর একটী অমুসন্ধান করে, সেই অনুসন্ধানে জীবন স্বপ্লবৎ অতিবাহিত হয় । চেষ্টা সফল হউক বা না হউক, যতদিন চেষ্টা থাকে, যতদিন আশা থাকে, ততদিন জীবন দুৰ্ব্বহণীয় হয় না । আর আশা নাই কোন মনুষ্যের ? যুবকের প্রেম, উচ্চাভিলাষ, মান, সন্ত্রম, ক্ষমতা ও খ্যাতি লাভের আকাজ ; বৃদ্ধের ধন-কামনা, পুত্র-কামনা, বংশবৃদ্ধি কামনা, সহস্ৰ কামনা, সহস্ৰ আকাঙ্ক্ষায় জীবন অতিবাহিত হয়। আর অভাগিনী নারীকুলের কি আছে ?” কমলা ক্ষণেক নিস্তব্ধ হইলেন। সরলার দিকে চাছিলেন, দেখিলেন, সরলা একাগ্রচিত্তে শুনিতেছে, আর তাহার মুখপানে চাহিয়া রহিয়াছে। তখন তাবার বলিতে লাগিলেন- . “অভাগিনী নারীকুলের কি আছে ? সংসারস্বরূপ অপার অগাধ সমুদ্রে তাহাদিগের একটমাত্র ক্ষুদ্র ক্ষণভঙ্গুর তরী আছে,--সেট প্রেম। সেই প্রেমের উপর নির্ভর করিয়া তাহারা অপার সংসায়ে আইসে, যদি সেই তরীট ডুবিল, তবে নারীর আর অবলম্বন নাই, আর মুখের কারণ নাই, আর আশা নাই, আর ভরসা নাই, অতল জলে সস্তরণ ভিন্ন অার উপায় নাই।” - ... . . . সরলা বলিল,--"আমার বোধ হয়, দিদি তুমি বড় দুঃখিনী, কেমন তোমার কেহই নাই, জগতে আশাও নাই।” . . . ... riv;