পাতা:বঙ্গবিজেতা.djvu/১৭৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

Y ግ8 - বঙ্গবিজেতা । একজন দূতকে অগ্রে প্রেরণ করিলেন । দূত নিঃশব্দে যাইয়। নিঃশব্দে প্রত্যাবর্তন করিল, বলিল, " শত্রুপক্ষের চারিজন শিবির রক্ষক ঐ স্থানে পাহার দিতেছে, অন্ধকারে কেহ না যাইতে পারে বলিয়া অগ্নি জালাইতেছে।” ইন্দ্রনাথ দশ জন তীরন্দাজকে অগ্ৰে যাইতে বলিলেন ও আদেশ করিলেন, “ যদি ঐ চরিজনের মধ্যে একজনও পালাইয়া যাইয়। শিবিরে সংবাদ দেয়, তবে তোমাদের দশ জনের প্রাণসংহার করিব ।” তীরন্দাজগণ ধীরে ধীরে যাইয়। মুহূৰ্ত্ত মধ্যে চারি জনকেই ভূতলশাস্ত্রী করিল। ইন্দ্রনাথের সেনা অগ্রসর হইতে লাগিল । আরও দুই তিন স্থানে ঐরূপ পাহারা ছিল, রক্ষকগণ ঐরুপে নিহত হইল। এক স্থানের একজন রক্ষক পলারন করিল । ইন্দ্রনাথ চিন্তিত হইলেন, আদেশ দিলেন, “তাশ্ব ধাবিত করিয়া আইস, রক্ষক শিবিরে পহুছিবার অগ্রে আমরা যাইব ।” ইন্দ্রনাথ অল্প সময়ের মধ্যেই পাঠানদিগের পরিখার নিকটবৰ্ত্তী হইলেন, তাহার অশ্বরোহীর তাহার সঙ্গে ছিল, পদাতিকের পশ্চাতে পড়িয়ছিল । পরিখার বাহিরেও প্রায়ু তিন চারি সহস্ৰ পাঠানসেন রণসজ্জা করিয়াছিল, তাহাদিগের সহিত যুদ্ধ আরম্ভ হইল । শত্রুর সম্মুখে তিন রেখায় সজ্জিত ছিল, প্রথম রেখার সৈন্যেরা উপবেশন করিয়া অশ্বারোহীদিগের গতিরোধের জন্য বর্শা উত্তোলন করিয়াছিল,—দ্বিতীয় রেখার সৈন্যেরা কিঞ্চিৎ নত হইয়া সেইরূপ বশ ধারণ করিয়াছিল ও কিঞ্চিৎ দূরে তৃতীয় শ্রেণীর সৈন্যেরা দণ্ডায়মান হষ্টয়া বর্শ ধারণ করিয়াছিল । তাহীদের আকৃতি দেখিলে বোধ হয় যে, যদি ভীষণ পৰ্ব্বতরাশি ত্যাসিয় তাহাদিগের মস্তকে পতিত হয়, তাহার। সেই পৰ্ব্বন্তরাশির গতিরোধ করিতেও প্রস্তুত ছিল, কিন্তু ইন্দ্রনাথের গতিরোধ করিতে পরিল না । ইন্দ্রনাথ আদেশ করিলেন, “ এস্থানে যুদ্ধের অবিশুক নাই, অগ্রসর হও ।” অশ্বারোহীগণ কাহারও উপর অস্তক্ষেপ না করিয়া অশ্ব ধাবিত করিলেন । - বর্ষাকালে পৰ্ব্বতশেখর হইতে নদী যেরূপ বেগে অবতরণ করিয়া নিম্নস্থ বৃক্ষ, কুটার, গ্রাম একেবারে ভাসাইয়া লইয়া যায়, পঞ্চশত অশ্ব সেইরূপ সৈন্য রেখারত্রয়ের উপর আসিয়া পড়িল । কাহীর সাধ্য সে বেগগতি রোধ করে, নদীয় বেগ কে ফিরাইতে পারে? তিন রেখা ভগ্ন ও ছিন্নভিন্ন হইয়া গেল, অশ্বের পদাঘাতে অনেক সৈন্য প্রাণত্যাগ করিল, অনেক সৈন্যের