পাতা:বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২৯৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
বৈষ্ণব-চরিতাখ্যান—নরোত্তম-বিলাস—১৬১৪-১৬২৫ খৃঃ।
১২৪৩

ঐছে মহাশয়ের মহিমা সবে কয়।
লোক-মুখে শুনিয়া রাজার হৈল ভয়॥
রূপ নারায়ণ প্রতি কহে ধীরে ধীরে।
এবে কি উপায় ভাই বোলহ আমারে॥
রূপ-নারায়ণ কহে সকলের সার।
বৈষ্ণবের ধর্ম্ম-পর ধর্ম্ম নাহি আর॥
বৈষ্ণবের নিন্দা সদা হৈল শ্রবণ।
ইহাতে অবশ্য হয় নরকে গমন॥
চল গিয়া করি তার চরণে আশ্রয়॥
তবে সে হইব রক্ষা কহিল নিশ্চয়॥
নরসিংহ কহে এই হইল মোর মনে।
বিলম্বের কার্য্য নাই চল এইক্ষণে॥
রূপনারায়ণ কহে অদ্য এথা রহ।
কালি প্রাতে গমন করিবা গণ-সহ॥

রাজার বৈষ্ণব ধর্ম্মের প্রতি শ্রদ্ধা।এই কথা সর্ব্বত্র হইল সেই ক্ষণে।
কালি রাজা খেতরী যাইব গণ-সনে॥
অধ্যাপকগণের হইল মহা-দায়।
রাজার সম্মুখ হৈতে না পারে লজ্জায়॥
মৃত-প্রায় হইয়া আছএ নিজ-স্থানে।
পরস্পর কহে কালি কি হবে বিহানে॥
এথা অধ্যাপকগণে পরাজয় করি।
বারুই কুমার দোঁহে চলএ খেতরি॥
রামচন্দ্র কাঙ্গালে ডাকিয়া দিলা পাণ।
গঙ্গানারায়ণ হাঁড়ী করিলা প্রদান॥
পরম কৌতুকে দোঁহে খেতরি আইলা।
শ্রীঠাকুর মহাশয়ে সব নিবেদিলা॥
এথা রাজা নরসিংহ চিন্তে মনে মনে।
অনুগ্রহ করিব কি এ হেন দুর্জ্জনে॥
করি কত খেদ কহে রূপনারায়ণ।
তার অনুগ্রহ বিনা বিফল জীবন॥

অকস্মাৎ দূরে থাকি কহে এক জনে।
তেঁহ অনুগ্রহ করিবেন নিজ-গুণে॥