প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:বড়দিদি-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/৪২

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
৩৭
বড়দিদি
 


 “পারি।”

 সুরেন্দ্রনাথ পিতার ঠিকানা বলিয়া দিল। সেই ছাত্রটি সেইদিন পত্র লিখিয়া দিল। তাহার পর বড়দিদির সন্ধান লইবার জন্য জিজ্ঞাসা করিল, “এখানে স্ত্রীলোক ইচ্ছা কর্‌লে আস্‌তে পারেন, আমরা সে বন্দোবস্ত কর্‌তে পারি। আপনার জ্যেষ্ঠা ভগিনীর ঠিকানা জান্‌তে পার্‌লে তাঁকেও সংবাদ দিতে পারি।-”

 সুরেন্দ্রনাথ কিছুক্ষণ চিন্তা করিয়া, ব্রজরাজবাবুর ঠিকানা কহিয়া দিল।

 “আমার বাসা ব্রজবাবুর বাড়ীর নিকটেই, আজ তাঁকে আপনার অবস্থা জানাব। যদি ইচ্ছা করেন, তিনি দেখ্‌তে আস্‌তে পারেন।”

 সুরেন্দ্র কথা কহিল না। মনে মনে বুঝিয়াছিল— বড়দিদির আসা অসম্ভব। ছাত্রটি কিন্তু দয়াপরবশ হইয়া ব্রজবাবুকে সংবাদ দিল। ব্রজবাবু চমকিত হইলেন, “বাঁচ্‌বে ত?”

 “সম্পূর্ণ আশা আছে।”

 বাড়ীর ভিতর গিয়া কন্যাকে কহিলেন, “মাধবী, যা ভাব্‌ছিলাম তাই হয়েছে! সুরেন গাড়ীচাপা প’ড়ে হাঁসপাতালে আছে।”

 মাধবীর সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ শিহরিয়া উঠিল। “তোমার নাম ক’রে নাকি বড়দিদি বলে ডাক্‌ছিল। তুমি দেখ্‌তে যাবে?” এই সময় পার্শ্বের কক্ষে প্রমীলা, ঝন্‌ ঝন্‌ করিয়া কি সব ফেলিয়া দিল। মাধবী সেই দিকে ছুটিয়া গেল। অনেকক্ষণ পরে ফিরিয়া আসিয়া কহিল, “তুমি দেখে এসো, আমি যেতে পার্‌ব না।”

 ব্রজবাবু দুঃখিতভাবে, ঈষৎ হাসিয়া বলিলেন, “সে বনের পশু— তার উপরে কি রাগ করে?”