প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:বড়দিদি-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/৬৫

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
বড়দিদি
৬০
 


কিন্তু লোকটির সহিত ত মিলিতেছে না। এ নাম সে কত দিন মনে মনে ভাবিয়াছে। সে আজ পাঁচ বৎসর হইল! ভুলিয়াছিল,– আবার বহুদিন পরে মনে পড়িল।

 স্বপ্নে ও নিদ্রায় মাধবীর সে রাত্রি বড় দুঃখে কাটিল। অনেকবার পুরাণো কথাগুলো মনে পড়িতেছিল, অনেকবার চোখে জল আসিয়া পড়িতেছিল। সন্তোষকুমার তাহার মুখপানে চাহিয়া ভয়ে ভয়ে কহিল, “পিসীমা, আমি মার কাছে যাব।” মাধবী নিজেও কয়েকবার এ কথা ভাবিয়াছিল– কেন না, এখানকার বাস যখন উঠিয়াছে, তখন কাশীবাস ভিন্ন অন্য উপায় নাই। সন্তোষের জন্য সে জমিদারের সহিত দেখা করিবে মনে করিয়াছিল, কিন্তু তাহা হয় না। পাড়া-প্রতিবাসীরা নিষেধ করিতেছে। তা ছাড়া এখন যেখানেই সে যাক্‌, একটা নূতন ভাবনা, একটা নূতন উপসর্গ হইয়াছে। সেটা এই রূপ-যৌবনের কথা! মাধবী মনে করিল, পোড়াকপাল! এ উৎপাতগুলা কি এখনো এ দেহটায় লাগিয়া আছে! আজ সাত বৎসর হইল, এগুলা তাহার মনে পড়ে নাই, মনে করিয়া দিতে কেহ ছিল না। স্বামী মরিবার পর যখন বাপের বাড়ী ফিরিয়া গেল, তখন সকলে ডাকিল, “বড়দিদি”, সবাই ডাকিল “মা!” এই সম্মানের ডাকগুলি তাহার মনকে আরও বৃদ্ধ করিয়া দিয়াছিল। ছাই রূপ-যৌবন! যেখানে তাহাকে বড়দিদির কাজ করিতে হইত, জননীর স্নেহ-যত্ন বিলাইতে হইত, সেখানে কি এসব কথা মনে থাকে! মনে ছিল না, মনে পড়িয়াছে,– তাই ভাবনাও হইয়াছে! বিশেষ করিয়া এই যৌবনের উল্লেখটা! লজ্জায় মলিন হাসি হাসিয়া কহিল, “এখানকার লোকগুলা কি অন্ধ, না