পাতা:বাংলা শব্দতত্ত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -দ্বিতীয় সংস্করণ.pdf/১২৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাংল। বহুবচন ఏ& উত্তম পুরুষ এবং মধ্যম পুরুষ সৰ্ব্বনাম শব্দে একবচনে অথবা বহুবচনে প্রায় কোথাও ষষ্ঠীতে ককারের প্রয়োগ নাই—প্রায় সৰ্ব্বত্রই রকার ব্যবহৃত হইয়াছে। যথা, সাধুহিন্দি একবচনে মেরা, বহুবচনে হুমার । কনেীজি, মেরো, হমারো। ব্রজভাষা মাড়ওয়ারি, হ্মারো, স্বারো । মেওয়ারি, হ্মণরে, হ্মণবরারো। অবধি, মোর, হমার । রিওয়াই, স্বার, হম্‌হার । মধ্যম পুরুষেও, তেরা, তুমহরা ; তোর, তুমার ; ভার, তুমহার প্রভৃতি প্রচলিত । কোনো কোনো ভাষায় বহুবচনে কিঞ্চিং প্রভেদ দেখা যায় যথা –নেপালি হামেরুকে । ভোজপুরি, হমরণকে । মাগধী, হমরণীকে । মৈথিলি হমরাসভকে । অন্য গৌড়ীয় ভাষায় কেবল সৰ্ব্বনামের ষষ্ঠী বিভক্তিতে যে রকার বর্তমান বাংলায় তাহা সৰ্ব্বনাম ও বিশেষ্যে সৰ্ব্বত্রই বর্তমান } ইহা হইতে অনুমান করি, ককার অপেক্ষ রকার ষষ্ঠীবিভক্তির প্রাচীনতর রূপ । মৈথিলী ষষ্ঠীর বহুবচনে “হমরাসভকে” সম্বন্ধে কিঞ্চিৎ বক্তব্য, . আছে। পূৰ্ব্বে বলিয়াছি বাংলায় কর্তৃকারক বহুবচনে সব শব্দের পূৰ্ব্বে বহুবচনবাচক “রা” বিভক্তি বসে, যথা ছেলেরা সব । কিন্তু মৈথিলিতে শুদ্ধ “নেন সব” বলিতেই বালকেরা সব বুঝায়। পূৰ্ব্বে এ কথাও বলিয়াছি এ সম্বন্ধে মৈথিলির সহিত বাংলার তুলনা হয়, না, কারণ, মৈথিলিতে বাংলার ন্যায় কর্তৃকারক বহুবচনের কোনো বিশেষ বিভক্তি নাই ।