পাতা:বাংলা শব্দতত্ত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -দ্বিতীয় সংস্করণ.pdf/২০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


lo/o সেখানে অসম্ভব। যদি পণ্ডিত মশায়দের এই রায়ই পাকা হয় যে, সংস্কৃত ভাষায় মহামহোপাধ্যায় না হইলে বাংলা ভাষায় কলম ধরা ধৃষ্টতা, তবে যাদের সাহস আছে ও মাতৃভাষার উপর দরদ আছে, প্রাকৃত বাংলার জয়পতাকা কাধে লইয়৷ তাদের বিদ্রোহে নামিতে হইবে । ইহার পূর্বেও “আলালের ঘরে দুলাল” প্রভৃতির মতে বই বিদ্রোহের শাখ বাজাইয়াছিল কিন্তু তখন সময় আসে নাই । এখনি যে আসিল এ কথা বলিবার হেতু কী ? হেতু আছে। তাহা বলিবার চেষ্টা করি । ইংরেজি হইতে আমরা যা লাভ করিয়াছি যখন আমাদের দেশে ইংরেজিতেই তার ব্যাবসা চলিতেছিল তখন দেশের ভাষার সঙ্গে দেশের শিক্ষার কোনো সামঞ্জস্য ঘটে নাই । রামমোহন রায় হইতে মুরু করিয়া আজ পর্য্যস্ত ক্রমাগতই,নূতন ভাব ও নূতন চিন্তা আমাদেব ভাষার মধ্যে আনাগোনা করিতেছে ; এমন করিয়া আমাদের ভাষা চিন্তার ভাষা হইয়। উঠিয়াছে। এখন আমরা ঘরে ঘরে মুখে মুখে যে সব শব্দ নিরাপদে ব্যবহার করি তাহা আর পচিশ বছর পূৰ্ব্বে করিলে দুর্ঘটন ঘটিত । এখন আমাদের ভাষা-বিচ্ছেদের উপর সাড়া ব্রিজ, বাধা হইয়াছে। এখন আমরা মুখের কথাতেও নূতন পুরাতন সংস্কৃত শব্দ ব্যবহার করি আবার পুথির ভাষাতেও এমন শক চলিতেছে পূৰ্ব্বে সাধুভাষায় যাদের জল-চল ছিল না। সেই জন্যই পুথির ভাষায় ও মুখের ভাষায় সমান বহরের রেল পাতিবার যে-প্রস্তাব উঠিয়াছে,