পাতা:বাংলা শব্দতত্ত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -দ্বিতীয় সংস্করণ.pdf/২০৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


У “е শব্দতত্ত্ব “আহো, হিমালয়ের কী অপূৰ্ব্ব গাম্ভীৰ্য্য।” এর পরে কি ঐ ফোটা-সওয়ারি দাড়িটার আকাশে তর্জনী নির্দেশের দরকার আছে—( রোসো, প্রশ্নচিহ্নটা এখানে না দিলে কি তোমার ধাধা লাগবে ( ? ) । কে, কি, কেন, কার, কিসে, কিসের, কত, প্রভৃতি এক ঝাক অব্যয় শব্দ তো আছেই তবে চিহ্নের খোসামুদি করা কেন । “তুমি তো আচ্ছা লোক” এখানে “তো”—ইঙ্গিতের পিছনে আরো একটা চিহ্নের ধাক্কা দিয়ে পাঠককে ডবল চমক খাওয়ানোর দরকার আছে কি পাঠক কি আফিমখোর। “রোজ রোজ যে দেরি ক’রে আসে” এই বাক্যবিন্যাসেই কি নালিশের যথেষ্ট জোর পৌছল না। যদি মনে করো অর্থ টা স্পষ্ট হোলো না তাহোলে শব্দযোগে অভাব -পূরণ করলে ভাষাকে বৃথা ঋণী করা হয় না,—যথা, “রোজ রোজ বড়ো-যে দেরি করে আসে।” মুস্কিল এই যে, পাঠককে এমনি চিহ্ন-মেীতাতে পেয়ে বসেছে, ওগুলো না দেখলে তার চোখের তার থাকে না। লঙ্কাবাটা দিয়ে তরকারী তো তৈরি হয়েছেই কিন্তু সেই সঙ্গে একটা আস্ত লঙ্কা দৃশ্যমান না হোলে চোখের ঝালে জিভের ঝালে মিলনাভাবে ঝাঝটা ফিকে -বোধ হয় । ছেদ চিহ্নগুলো আর এক জাতের । অর্থাৎ যতি-সঙ্কেতে পূৰ্ব্বে ছিল দগুহাতে একাধিপত্য-গৰ্ব্বিত সাধে দাড়ি—কখনো বা একলা কখনো দোকলা । যেন শিবের তপোবনদ্বারে নন্দীর তর্জনী। এখন তার সঙ্গে জুটে গেছে বাকা বাকা ক্ষুদে ক্ষুদে