পাতা:বাংলা শব্দতত্ত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -দ্বিতীয় সংস্করণ.pdf/২০৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


s१२ শব্দতত্ত্ব বিস্ময় প্রকাশ পায় । “তুমি যে বাবুয়ানা স্বরু করেছ।” প্রথমটাতে প্রশ্ন এবং দ্বিতীয়টাতে বিস্ময়চিহ্ন দিয়ে কাজ সারা যায়। কিন্তু যদি চিহ্ন দুটো না থাকে তাহোলে ভাষাটাকেই নিঃসন্দিগ্ধ করে তুলতে হয়। তাহোলে বিস্ময়সূচক বাক্যটাকে শুধরিয়ে বলতে হয়—“যে-বাবুয়ান তুমি স্বরু করেছ।” এইখানে আর একটা আলোচ্য কথা আছে। প্রশ্নস্বচক অব্যয় “কি” এবং প্রশ্নবাচক সৰ্ব্বনাম “কি” উভয়ের কি এক বানান থাকা উচিত । আমার মতে বানানের ভেদ থাক। আবশ্যক। একটাতে হ্রস্ব ই ও অন্যটাতে দীর্ঘ ঈ দিলে উভয়ের ভিন্ন জাতি এবং ভিন্ন অর্থ বোঝবার সুবিধা হয় । “তুমি কি রাধছ” “তুমি কী রাধছ”—বলা বাহুল্য এদুটো বাক্যের ব্যঞ্জন স্বতন্ত্র। তুমি রাধছ কিন, এবং তুমি কোন জিনিষ রাধছ, এ দুটো প্রশ্ন একই নয়, অথচ এক বানানে দুই প্রয়োজন সারতে গেলে বানানের খরচ বাচিয়ে প্রয়োজনের বিঘ্ন ঘটানো হবে । যদি দুই “কি”-এর জন্যে দুই ইকারের বরাদ করতে নিতান্তই নারাজ থাকে৷ তাহোলে হাষ্টফেন ছাড়া উপায় নেই। দৃষ্টান্ত :– “তুমি-কি রাধ ছ” এবং “তুমি কি-রাধ ছ।” এই পৰ্য্যস্ত থাক । ইতি ৫ নবেম্বর, ১৯৩১ ৷ *

  • পরে দেখা গেছে, কি এবং কী-এর বিশেষ প্রয়োগ পুরোনে বাংলা পুথিতেও প্রচলিত আছে।