পাতা:বাংলা শব্দতত্ত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -দ্বিতীয় সংস্করণ.pdf/৩৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8 শব্দতত্ত্ব শিশুদিগকে বিপাকে ফেলিয়া থাকে। এই তিনটে সয়ের হাত এড়াইবার জন্যই পরীক্ষার পূৰ্ব্বে পণ্ডিত মশায় ছাত্রদিগকে পরামর্শ দিয়াছিলেন যে “দেখো বাপু,"স্থশীতল সমীরণ লিখতে যদি ভাবনা উপস্থিত হয় তো লিখে দিও ঠাণ্ডা হাওয়া ।” এ ছাড়া দুটো বয়ের মধ্যে একটা ব কোনো কাজে লাগে না । ঋ, ও, এ গুলো কেবল সং সাজিয়া আছে। চেহারা দেখিলে হাসি আসে, কিন্তু মুখস্থ করিবার সময় শিশুদের বিপরীত ভাবোদয় হয় । সকলের চেয়ে কষ্ট দেয় দীর্ঘ হ্রস্বস্বর। কিন্তু বর্ণমালার মধ্যে যতই গোলযোগ থাক্‌ না কেন আমাদের উচ্চারণের মধ্যে কোনো অনিয়ম নাই এইরূপ আমার ধারণা ছিল । ইংলণ্ডে থাকিতে আমার একজন ইংরাজ বন্ধুকে বাংলা পড়াইবার সময় আমার চৈতন্য হইল, এ বিশ্বাস সম্পূর্ণ সমূলক নয়। এ বিষয়ে আলোচনা করিবার পূর্বে একটা কথ। বলিয় রাখা আবশুক । বাংলা দেশের নানাস্থানে নানাপ্রকার উচ্চারণের ভঙ্গী আছে । কলিকাতা অঞ্চলের উচ্চারণকেই আদর্শ ধরিয়া লইতে হইবে। কারণ, কলিকাত রাজধানী। কলিকাতা সমস্ত বঙ্গভূমির সংক্ষিপ্তসার । “হরি” শব্দে আমার “হ” যেরূপ উচ্চারণ করি “হর” শব্দে “হ” সেরূপ উচ্চারণ করি না। “দেখা” শব্দের একার একরূপ, এবং দেখি শব্দের একার আর একরূপ । “পবন” শব্দে “প” অকারান্ত “ব” ওকারান্ত, “ন” হসন্ত শবদ । “শ্বাস” শব্দের “শ্ব”র উচ্চারণ বিশুদ্ধ “শ”য়ের মতে, কিন্তু বিশ্বাস” শব্দের “শ্ব”য়ের