পাতা:বাংলা শব্দতত্ত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -দ্বিতীয় সংস্করণ.pdf/৬৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


○8 শব্দতত্ত্ব “চিকচিক” গোড়ায় চিকণ শব্দ হইতে উদ্ভূত হইয়াছে কি না, সে প্রসঙ্গ এস্থলে আমি অনাবশুক বোধ করি । চকচক চিকচিক ঝিকবিকে এক্ষণে বিশুদ্ধ ধ্বনি মাত্র । চিকচিকে পদার্থের চঞ্চল জ্যোতি আমাদের চক্ষে একপ্রকার অশব্দ ধ্বনি করিতে থাকে, তাহাকে আমরা চিকুচিক্‌ বলি—আবার সেই চিক্কণত৷ যদি তৈলাভিষিক্ত হয়, তবে তাহা নীরবে চুকচুক শব্দ করে, আমরা বলি তেল-চুকচুকে । চিকণ পদার্থ যদি চঞ্চল হয়, যদি গতিবশতঃ তাহার জ্যোতি একবার একদিক হইতে একবার অন্যদিক হইতে আঘাত করে, তখন সেই জ্যোতি চিকচিক্‌ ঝিকৃঝিক্‌ বা ঝলঝল না করিয়া চিক্‌মিক্‌ ঝিকৃমিক্‌ ঝলমল করিতে থাকে অর্থাৎ তখন সে একটা শব্দ না করিয়া দুইটা শব্দ করে । কটমট করিয়া চাহিলে সেই দৃষ্টি যেন একদিক হইতে কট এবং আর একদিক হইতে মট করিয়া আসিয়া মারিতে থাকে, এবং ধ্বনির বৈচিত্র্য দ্বারা কাঠিন্যের ঐক্য যেন আরো পরিস্ফুট হয়। অবস্থাবিশেষে শব্দের হ্রস্বদীর্ঘতা আছে ;—ধপ, করিয়া যে লোক পড়ে, তাহ অপেক্ষ স্থূলকায় লোক ধপাস করিয়া পড়ে। পাতলা জিনিষ কচ করিয়া কাটা যায়, কিন্তু মোট জিনিষ কচাং করিয়া কাটে । আলোচ্য বিষয় আরো অনেক আছে। দেখা আবশ্যক এই ধ্বন্যাত্মক শব্দগুলির সীমা কোথায় অর্থাৎ কোন কোন বিশেষ জাতীয় ছবি ও ভাব প্রকাশের জন্য ইহারা নিযুক্ত। প্রথমতঃ ইহাদিগকে স্থাবর এবং জঙ্গমে একটা মোটাবিভাগ করা যায়—