পাতা:বাঙ্গলার পরিচিত পাখী.djvu/২০

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
শামা

শামা আমাদের সুপরিচিত পাখী। সুকণ্ঠ গায়ক পাখী হিসাবে ভারতবর্ষে শামা শ্রেষ্ঠতম। বাঙ্গালী কবিগণ সর্ব্বদা ‘শামা’র উল্লেখ করেন। এই পাখীর কথা আমরা অনেকেই জানি, কিন্তু একে চিনি না। না চিনিবার কারণ পূর্ব্ব প্রবন্ধে উল্লেখ করিয়াছি—শামা গভীর অরণ্য-নিবাসী। একে জানিতে হইলে খাঁচার ভিতর এর সঙ্গে পরিচয় করিতে হইবে।

 “শামা” নামটি মূলতঃ সংস্কৃত কি ফারসী, বলিতে পারি না। আমার মনে হয় মোগল বাদশাহেরাই পক্ষিপালনে পারদর্শিতা দেখাইয়াছিলেন এবং খুব সম্ভবতঃ তাঁহারাই ইহাকে খাঁচায় ধরিয়া, ইহার সঙ্গীতমাধুর্য্য উপভোগ করার রীতি প্রচলিত করেন। মোগল বাদশাহেরা বহুতর বর্ণসঙ্কর গৃহপারাবত উৎপাদন করান; বুলবুল পাখীর মল্লক্রীড়ার রীতি প্রচলিত করেন। সুতরাং এ অনুমান অসঙ্গত হইবে না যে অরণ্যবিহারী এই সুন্দর, সুঠাম ও সুগায়ক পাখীকে আবিষ্কার করিয়া মানুষের আনন্দলাভের জন্য তাঁহারাই পালন করিতে আরম্ভ করেন। ইহাকে “শ্যামা” বানানে চালাইতে চাহিল হয়তো হিন্দুচিত্ত অপ্রসাদ লাভ করিতে পারে, কিন্তু ঐতিহাসিক সত্য যে লজ্জিত হইবে না তাহা জোর করিয়া বলা যায় না। প্রাক্-মুসলমান ভারতে খাঁচায় পাখী অপরিজ্ঞাত ছিল না বটে, কিন্তু সংস্কৃত সাহিত্যে যে কয়টি গৃহপালিত পাখীর উল্লেখ পাই, তাহারা সকলেই মুক্ত অবস্থায় লোকালয়ের কাছে কাছেই ফেরে—যেমন, শুক, সারিকা, ভবনশিখী, পারাবত। এমন কি যে বুলবুল পাখী ভারতে প্রচুর ও সুলভ তাহার নামটি আরবী। এ কথা কোনও বৈজ্ঞানিক বলেন নাই যে মধ্য-যুগে