পাতা:বাঙ্গালা ভাষার অভিধান (দ্বিতীয় সংস্করণ) দ্বিতীয় ভাগ.djvu/১০৫৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

________________

২২৯৪ বাংলা বানানের নিয়ম যদি মুজ সংস্কৃত শব্দে ঈ বা উ থাকে তবে তদ্ভব বা তৎসদৃশ শব্দে ঈ উ অথবা বিকলেই বা উহইবে, যথা- কুমার, পাখী, বাড়ী, শীৰ, উনিশ, চুন, পূৰ' অথবা কুমির, পাখি, বাডি, শিষ..উমিশ, চুন, পুৰ। কিন্তু কতকগুলি শলে কেবল ঈ, কেবল ই অথবা কেবল উহইবে, যথা ‘নীলা (মীলক), হীরা (হী); দিয়াশলাই (দীপশলাকা). খিল (কীল), পানি (পানীয়) ; চুল (চুল), তাড়, (তদু), জুয়া (দত)'। স্ত্রীলিঙ্গ এবং জাতি, ব্যক্তি, ভাষা ও বিশেষণবাচক শব্দের অন্তেই হইবে, যথা- 'কলুনী, বাঘিনী, কাবুলী;কেরানী, ঢাকী, ফরিয়াদী, ইংরেজী, বিলাতী, দাগ, রেশমী'। কিন্তু কতকগুলি শবেই হইবে, যথা-ঝি, দিদি, বিবি; কচি, মিহি, মাঝারি, চলতি'। পিসী, মাসী স্থানে বিকল্পে পিসি, মাসি' লেখা চলিবে। অন্যত্র মনুষ্যেতরী , বস্তু, গুণ, ভাষা ও কর্মবাচক শব্দের এবং বিরাবৃত্ত শব্দের অন্তে কেবল ই হইবে, যথা—‘বেঙাচি, বেজি, কাঠি, সুজি, কেরামতি, চুরি, পাগলামি, বাবুগিরি, তাড়াতাডি, সরাসরি, সােজাসুজি'। নবাগত বিদেশী শব্দে ঈ উ প্রয়ােগ সম্বন্ধে পরে অষ্টব্য। এই সকল শব্দে য না লিখিয়া জলেখা বিধেয়-কাজ, জাউ, জাত, জাতি, জুই, জুত, গে, জোড, জোড়া জোত, জোয়াল। ৭। ণ ন অসংস্কৃত শব্দে কেবল ন হইবে, যথা- কান, সোনা, বামুন, কোয়ান, করোনার। কিন্তু যুক্তাক্ষর ট, ঠ, ও, ৫ চলিবে, যথা‘ঘুষ্টি, লণ্ঠন, ঠাণ্ডা'। . ‘রানী’ স্থানে বিকল্পে রাণী’ চলিতে পারিবে। ৮। ও-কার ও উধ্ব-কম প্রভৃতি সুপ্রচলিত শব্দের উচ্চারণ. উৎপত্তি বা অর্থের ভেদ বুঝাইবার জন্য অতিরিক্ত ও-কার, উধ্ব -কমা বা অন্য চিহ্ন যােগ যথাসম্ভব বর্জনীয়। যদি অর্থগ্রহণে বাধ্য হয় তবে কয়েকটি শব্দে অশ্য অক্ষরে ও-কার এবং অদ্য ৰা মধ্য অক্ষরে উধ্ব-কমবিকল্পে দেওয়া যাইতে পারে, যথা-কাল, কালো ; ভাল, ভালে;ম, মতো; পড়াে, পড়ে (পড় গা ৰা পতিত)'। এইসকল বানান বিধেয়-এত, কত, যত, তত ; তো, হয়তো কাল (সময়, কল্য), চাল (চাউল, ছত, গতি), ডাল (দাইল, শাখা)'। | ‘বাঙ্গলা, বাঙ্গালা, বাঙ্গালী, ভাঙ্গন' প্রভৃতি এবং বাংলা, বাঙলা, বাঙালী, ভাঙন' প্রভৃতি উভয়প্রকার বানানই চলিবে। হসন্ত ধ্বনি হইলে বিকল্পেং ও বিধেয়, যথা-রং, রঙ; সং, সঙ; বাংলা, বাংলা'। স্বরাণিত হইলে বিধেয়, যথা-রঙের, বাঙালী, ভাঙন'। . ( ও ও-র প্রাচীন উচ্চারণ যাহাই হউক, আধুনিক বাংলা উচ্চারণ সমান, সেজন্য অনুস্বার স্থানে বিকল্পে ও লিখিলে আপত্তির কারণ নাই। রং-এর’ অপেক্ষা রঙের লেখা সহজ। 'রঙ্গের’ লিখিলে অভীষ্ট উচ্চারণ আসিবে না, কারণ ‘রঙ্গ'ও 'রং-এর উচ্চারণ সমান নয়, কিন্তু ‘রং' ও 'রঙ' সমান। ১০। শ ষ স মূল সংস্কৃত শব্দ-অনুসারে তদ্ভব শব্দে শ, ষ স হইবে, যথা-আঁশ (অংশু), আঁধ (আমিষ), শাস (শ), মশা (মশক), পিসী (পিতুঃসা)'। কিন্তু কতকগুলি শব্দে ব্যতিক্রম হইবে, যথা- মিনসে’ (মনুষ্য), 'সাধ’ (শ্রদ্ধা)। | বিদেশী শব্দে মুল উচ্চারণ-অনুসারে ২ স্থানে স, sh স্থানে শ হইবে, যা-আসল, ক্লাস, খাস, জিনিস, পুলিস, পেনসিল, মসলা, মাল, সবুজ, সাদা, সিমেন্ট, খুশি, চশমা, তক্তপােশ, পশম, পােশাক, পালিশ, পেনশন, শখ, শৌখিন, শয়তান, শরৎ, শরম, শহর, শার্ট, শেকস্পিয়য়'। কিন্তু কতকগুলি শব্দে ব্যতিক্রম হইবে, যথা-ইস্তাহায় (ইশতিহার), গােমস্তা (গুমাশতাহ), ভিত্তি (বিহিশতী), খ্রীষ্ট (Christ)'। | শ য স এই তিন বর্ণের একটি বা দুইটি অর্জন করিলে বাংলা উচ্চারণে বাধা হয় না, বরং বানান সরল হয়। কিন্তু অধিকাংশ তদ শব্দে মুল-অনুসারে শ ম স প্রয়োগ ও প্রচলিত, এবং একই শব্দের বিভিন্ন বানান প্রায় দেখা যায় না। এই নীতির সহসা পরিবর্তন বানীয় নয়। এ বিদেশী শব্দের প্রচলিত বাংলা বানানে মুল-অনুসারে প স লেখা হয়, কিন্তু কতকগুলি শব্দে ব্যতিক্রম বা বিভিন্ন বানান দেখা যায়, যথা-'সং, সর; শহর, সহয় ; শয়তান, সয়তন; পুলিস, পুলিশ'। সামঞ্জস্কের এ যাৎসব এই নিয়ম গ্রহণীয়।