পাতা:বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ.pdf/৫৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৫১
বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র

মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।

 শোক-সন্তপ্ত হৃদয়ে সুভাষচন্দ্র কলিকাতায় আসিয়া পৌঁছিলেন। দমদম এইরোড্রোমে পৌঁছিবার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁহার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হইল যে তাঁহাকে তাঁহার এলগিন রোড়ের বাড়ীতে বন্দীভাবে থাকিতে হইবে এবং এক সপ্তাহের মধ্যেই ভারতবর্ষ ত্যাগ করিতে হইবে। পরিশেষে পিতার শ্রাদ্ধানুষ্ঠান পর্য্যন্ত তাঁহাকে কলিকাতায় থাকিবার অনুমতি দেওয়া হইয়াছিল।

ইউরোপে প্রত্যাবর্ত্তন।

 পিতৃশ্রাদ্ধের অনুষ্ঠান শেষ করিয়া ১৯৩৫ খ্রষ্টাব্দের ৮ই জানুয়ারি সুভাষচন্দ্র পুনরায় ইউরোপে গমন করেন। ইউরোপে প্রত্যাবর্ত্তন করিবার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি এমন একটি রোগে আক্রান্ত হন যে তাঁহার দেহে অস্ত্রোপচার করিবার আবশ্যক হয়। '