রবি-প্রদক্ষিণ
পঁচিশে বৈশাখ দিনটিতে বাংলার বিভিন্ন স্থানে যে উৎসবের অনুষ্ঠান হইয়া থাকে, তাহাতে এক বিষয়ে আমাদের আশান্বিত হইবার কারণ আছে। বাংলার সর্বশ্রেষ্ঠ জীবিত কবি, আধুনিক ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিভা, জগতের সঙ্গে আমাদের সগৌরব পরিচয়ের সমুন্নত পতাকা —আমাদের বড় গর্ব্বের রবীন্দ্রনাথকে, তাঁহার জন্মদিনে আমরা আমাদের হৃদয়ের যে শ্রদ্ধা অর্পণ করিয়া থাকি, কোনও কবির উদ্দেশে আমরা পূর্বে এমনভাবে তাহা করি নাই। রবীন্দ্রনাথের লোকোত্তর প্রতিভার ভাস্বর জ্যোতি আমাদের অন্ধ-চক্ষু উন্মীলিত করিয়াছে— আমরা, জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ গৌরব যে সাহিত্য, তাহার সম্বন্ধে সচেতন হইয়াছি। আমরা আজ রবীন্দ্র-প্রতিভাকে এইভাবে পূজা না করিয়া যে তৃপ্ত হইতে পারি না, ইহাতে প্রমাণ হইতেছে যে, আমরা জীবনে এক নূতন দীক্ষা লাভ করিয়াছি; অতএব আরও এক কারণে বাঙালী জাতি রবীন্দ্রনাথের নিকটে ঋণী।
আজ রবীন্দ্রনাথ তাহার জ্যোতির্ম্ময় জীবনের আর এক বর্ষাঙ্কে পদার্পণ করিলেন, দুর্ভাগ্য বাঙালীর পক্ষে ইহা অল্প সৌভাগ্য নহে। হেম-নবীন-মধু-বঙ্কিমের যুগে যাহার আবির্ভাব হইয়াছিল, অস্তোন্মুখ বঙ্কিমচন্দ্রের মুগ্ধ দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়া যে তরুণ রবির তখনই প্রায় পূর্ণোদয় ঘটিয়াছিল, আজ সে-যুগের সর্ব্বশেষ প্রতিভা শরৎচন্দ্রের অস্তগমনের পরেও সেই রবি-রশ্মি এখনও দীপ্তি পাইতেছে—এক যুগ