—আর কাকে দেখেচেন?
—আর মনে হচ্চে না।
—আপনি হিসাবের খাতা দেখে ব’লে দিতে পারেন, কোন্ হাতের লেখা কার?
—ননীর হাতের লেখা আমি চিনি। তার হাতের লেখা বলতে পারি—কিন্তু সে খাতাই-বা কোথায়? খুনেরা সে খাতা তো নিয়ে গিয়েচে!
—কাকে বেশী টাকা ধার দেওয়া ছিল, জানেন?
—কাউকে বেশী টাকা দিতেন না বাবা। দশ, পাঁচ, কুড়ি—বড়জোর ত্রিশের বেশি টাকা একজনকেও তিনি দিতেন না।
শ্যামপুরের জমিদার-বাড়ি সেবেলা খাওয়া-দাওয়া করলাম।
একটা বড় চত্বর, তার চারিধারে নারিকেল গাছের সারি, জামরুল গাছ, বোম্বাই-আমের গাছ, আতা-গাছ। বেশ ছায়াভরা উপবন যেন। ডিটেক্টিভগিরি ক’রে হয়তো ভবিষ্যতে খাবো—তা ব’লে প্রকৃতির শোভা যখন মন হরণ করে—এমন মেঘমেদুর বর্ষা-দিনে গাছপালার শ্যামশোভা উপভোগ করতে ছাড়ি কেন?
বসলুম এসে চত্বরের একপাশে নির্জন গাছের তলায়।
ব’সে-ব’সে ভাবতে লাগলুম:
…কি করা যায় এখন? মামা বড় কঠিন পরীক্ষা আমার সামনে এনে ফেলেচেন?
মিঃ সোমের উপযুক্ত ছাত্র কি-না আমি, এবার তা প্রমাণ করার দিন এসেচে।
কিন্তু ব’সে-ব’সে মিঃ সোমের কাছে যতগুলি প্রণালী শিখেচি খুনের কিনারা করবার—সবগুলি পাশ্চাত্ত্য-বৈজ্ঞানিক-প্রণালী—স্কটল্যাণ্ড-ইয়ার্ডের ডিটেক্টিভের প্রণালী। এখানে তার কোনটিই খাটবে না। আঙুলের ছাপ নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা তাড়াতাড়ি করা হয় নি—সাত-আটদিন পরে এখন জিনিসপত্রের গায়ে খুনীর আঙুলের ছাপ অস্পষ্ট হয়ে গিয়েচে।
পায়ের দাগ সম্বন্ধেও ঠিক সেই কথা।
খুন হবার পর এত লোক গাঙ্গুলিমশায়ের ঘরে ঢুকেচে—তাদের সকলের পায়ের দাগের সঙ্গে খুনীর পায়ের দাগ একাকার হয়ে তালগোল পাকিয়ে গিয়েচে। গ্রামের কৌতূহলী লোকেরা আমায় কি বিপদেই ফেলেচে! তারা জানে না, একজন শিক্ষানবিশ-ডিটেক্টিভের কি সর্ব্বনাশ তারা করেচে!
আর-একটা ব্যাপার, খুনটা টাটকা নয়, সাতদিন আগে খুন হয়ে লাশ পর্য্যন্ত দাহ শেষ—সব ফিনিশ্—গোলমাল চুকে গিয়েচে।
চোখে দেখি নি পর্য্যন্ত সেটা—অস্ত্রাঘাতের চিহ্ন-টিহ্নগুলো দেখলেও তো যা হয় একটা ধারণা করা যেত। এ একেবারে অন্ধকারে ঢিল ছোঁড়া! ভীষণ সমস্যা!
মিঃ সোমকে কি একখানা চিঠি লিখে তাঁর পরামর্শ চেয়ে পাঠাবো? এমন অবস্থায় পড়লে তিনি নিজে কি করতেন জানাতে বলবো?