পাতা:বিষাদ-সিন্ধু - মীর মোশার্‌রফ হোসেন.pdf/৩৪৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
বিষাদ-সিন্ধু
৩২২

রাখা যাইতে পারে না। আমি তোমার এ ভ্রমপূর্ণ উপদেশ আর শুনিতে ইচ্ছা করি না।”

 পুনরায় তরবারি উত্তোলন করিতেই দর্শকগণ মধ্যে মহাগোলযোগ উপস্থিত হইল। কেহ পিছু হটিল, কেহ পড়িয়া গেল, কেহ উভয় পার্শ্বে ধাক্কা খাইয়া একপার্শ্বে সরিল। জনতা ভেদ করিয়া দ্বিতীয় সংবাদবাহী এজিদ-সম্মুখে উপস্থিত হইয়া ম্লান মুখে বলিতে লাগিল, “মহারাজ। ক্ষান্ত হউন! জয়নাল-বধে ক্ষান্ত হউন! বড়ই অমঙ্গল সংবাদ আনিয়াছি। সাধারণের সমক্ষে বলিতে সাহস হয় না।”

 এজিদ মহারোষে বলিলেন, “এখানে মোহাম্মদ হানিফা নাই,—বল।”

 সংবাদবাহী বলিল, “আমরা যাইয়া দেখি,—সেনাপতি সীমার বাহাদুর নিশীথ সময়ে সৈন্যগণকে তিন শ্রেণীতে বিভক্ত করিয়া বিপক্ষগণের শিবির বেষ্টন করিয়া রহিয়াছেন। প্রভাত বায়ুর সহিত বিপক্ষদল হইতে অসংখ্য তীরবর্ষণ হইতে লাগিল, দ্বিপ্রহর পর্য্যন্ত অবিশ্রান্তভাবে তীর ছুটিল। আমাদের সেনাপতি এক পদ ভূমিও অগ্রসর হইতে পারিলেন না। ক্রমে সৈন্যগণ শরাঘাতে জর জর হইয়া ভূতলশায়ী হইতে লাগিল। সেনাপতি সীমার কি মনে করিয়া সন্ধিসূচক শুভ্রপতাকা উড়াইয়া দিলেন। কিছুই বুঝিলাম না; যুদ্ধ বন্ধ হইল। কোন পক্ষ হইতেই আর যুদ্ধের আয়োজন দেখিলাম না। সন্ধ্যা উত্তীর্ণ হইল, নিশার গভীরতার সহিত বিপক্ষ শিবিরে মহাগোলযোগ উপস্থিত হইল। তাহার পর দেখিলাম যে, বিপক্ষ শিবিরে আগুন লাগিয়াছে—দেখিতে দেখিতে কত অশ্ব, কত সৈন্য পুড়িয়া মরিল। তাহার পর দেখিলাম, শিবিরস্থ ভূপতিদ্বয়কে বন্দীভাবে সেনাপতি মহাশয় শিবিরে লইয়া আসিলেন। আনন্দের বাজনা বাজিয়া উঠিল। সূর্য্য উদয় হইলেই শিবির ভগ্ন করিয়া সেনাপতি মহাশয় দামেস্ক-নগরে আসিবার উদ্যোগ করিতেছেন, এমন সময় পূর্ব্বদিক হইতে বহুসংখ্যক অশ্বারোহী সৈন্য বিশেষ সজ্জিতভাবে আসিয়া উপস্থিত হইল। বিপক্ষ দলের সৈন্যগণমধ্যে যাহারা পলাইয়া গত রাত্রের জ্বলন্ত হুতাশন হইতে প্রাণরক্ষা করিয়াছিল, দূর হইতে তাহাদের জাতীয় চিহ্নসংফুক্ত পতাকা দেখিয়া তাহারা ঐ আগন্তুক