পাতা:বুয়র ইতিহাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৫২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

৪৮

বুয়রদিগের উৎপত্তি।

 সেনাপতিও সেইস্থান পরিত্যাগ করিয়া, আলগোয়া উপসাগরে গমন করিলেন। সেইস্থানে যে ৬০০ শত লোককে পূর্ব্বে প্রেরণ করা হইয়াছিল, সেনাপতি গমন করিাই, তাহাদিগকে নিরস্ত্র করিবার চেষ্টা করেন; কিন্তু কৃতকার্য্য হইতে পারেন না। তাহারা সেইস্থান হইতে পলায়ন করিয়া, কোষাগণের সহিত মিলিত হয় ও শ্বেতাঙ্গদিগের বিপক্ষে অস্ত্র ধারণ করে। পরিশেষে বহু কষ্টে ও অনেক সৈন্য সামন্ত প্রেরণ করিয়া, কোষাগণকে পরাজয় করিতে হয়। কোষগণের সঙ্গে মধ্যে মধ্যে যে সকল যুদ্ধ হইয়াছিল, তাহাতে শ্বেতাঙ্গনিঃসৃত অনেক রক্ত পতিত হয়।

 এই সময় যিনি ইংরাজ শাসনকর্ত্তা ছিলেন, তিনি একজন উৎকোচগ্রাহী লোক ছিলেন। তাঁহার নামে উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ হওয়ায়, তাঁহাকে তাঁহার পদ হইতে স্থানান্তরিত করা হয়, ও ১৮০১ খৃষ্টাব্দে ইংলণ্ডে প্রত্যাগমন করিবার পর, বিচারে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।

 ইহার পর মেজর—জেনারেল ডণ্ডাস পুনরায় শাসনকর্ত্তা হইয়া ঐ স্থানে গমন করেন। তাঁহারই শাসনকালে ইউরোপের সমস্ত গোলোযোগ মিটিয়া যায়, এবং ইংলণ্ড, ফ্রান্স ও হলণ্ডবাসিগণের মধ্যে এক সন্ধি স্থাপিত হয়; ঐ সন্ধির মর্ম অনুসারে, ইংরাজগণ ১৮০৩ খৃষ্টাব্দে দক্ষিণ আফ্রিকা পুনরায় ডচ্‌দিগের হস্তে অর্পণ করেন। ডচ্‌গভর্ণমেন্টের পক্ষ হইতে ডি মিষ্ট (De Mist) শাসনকর্ত্তার পদে নিযুক্ত হইয়া, ৩০০০ সহস্র সৈন্যের সহিত আগমন করিয়া, ডণ্ডাসের নিকট হইতে পুনরায় ঐ সাম্রাজ্যের ভার গ্রহণ করেন।