পাতা:বৌদ্ধ-ভারত.djvu/১৩৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

ՏՋԵ বৌদ্ধ-ভারত পর হইতে ভিক্ষরা ক্ৰমে বিবাহ করতে লাগিল—ক্রমে একদল গহস্থ ভিক্ষ হইল। এইখান হইতেই ঘণে ধরা আরম্ভ হইল। সমাজে আসল ভিক্ষদের খাতির অধিক ছিল, গহসহ ভিক্ষদের আদর তত ছিল না। কিন্তু গৃহস্থ ভিক্ষদের নাম ছিল আৰ্য্য। আসল ভিক্ষরা আযীদের নমস্কার করতেন না, কিন্ত অনায্য হইলেও আসল ভিক্ষদের আয্যেরা নমস্কার করতেন। এই গহসহাশ্রমের ভিক্ষরাই ক্লমে দলে পরে হইতে লাগিল। কারণ তাহাদের সন্তানসন্ততি হইত, তাহারা আপনা আপনি ভিক্ষ হইয়া যাইত। একজন গহসহ গহসহাশ্রম ছাড়িয়া যদি ভিক্ষ হইতে যাইত—তাহাকে প্রথম “ত্রিশরণ” গ্রহণ করিতে হইত। তাহার পর “পণ্যানমোদনা” শিখিতে হইত, “পাপদেশনা” শিখিতে হইত, “পঞ্চশীল” গ্রহণ করিতে হইত, “অন্টশীল” গ্রহণ করিতে হইত, “দশশীল” গ্রহণ করিতে হইত, “পোষধৱত” ধারণ করিতে হইত—আরও কত কি করিতে হইত। ইহাতে তাহাদের অনেক সময় যাইত, কিন্ত গহসহ ভিক্ষর ছেলে সে একেবারেই ভিক্ষ হইত। যে সকল জিনিষ অন্যকে বহনকালে শিখিতে হইত, সে সকল বাড়ীতেই শিখিত, তবে আমাদের যেমন পৈতা একটা সংস্কার মাত্র উহাদেরও ঐ রকম ত্রিশরণ গ্রহণ, পঞ্চশীল গ্রহণ, এক একটা সংস্কারের মত হইয়া যাইত। আমাদের দেশে যেমন “জাত বৈষ্ণব” বলিয়া একটা জাতি হইয়াছে, সে কালেও তেমনি “জাতভিক্ষা” বলিয়া একটি জাতির মত হইয়াছিল। উহাদের যত দল পটি হইতে লাগিল, আসল ভিক্ষদের অবস্হা তত হীন হইতে লাগিল । গহসহ ভিক্ষরা কারিগরি করিয়া জীবন নিৰ্বাহ করত, ভিক্ষাও করিত, কেহ বা রাজমজর হইত, কেহ বা রাজমিস্ত্রী হইত, কেহ বা চিত্রকর হইত, কেহ বা ভাস্কর হইত, কেহ বা স্যাকরা হইত, কেহ বা ছতার হইত—অথচ ভিক্ষাও করিত, ধমও করিত, পজোপাঠও করিত। বৌদ্ধধমের পৌরহিত্যটা ক্ৰমে ক্লমে আসিয়া কারিগরদের হাতে পড়িল। যে কাজে পরিশ্রম কম, ঘরে বসিয়া করা যায়—একটা হাত পাকিলে কাজও ভাল হয়, দপয়সা আসেও বেশী, গহসহ ভিক্ষ