পাতা:ভারতবর্ষে.djvu/১৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১০
ভারতবর্ষে।

পৌছিতে পারি তাহা হইলে সে তাঁহাকে তাহার একটি মুচ্‌কি হাসি দান করিবে। পাঁচটার সময় পূর্ব্বদিকে কুয়াশার ন্যায় অস্পষ্ট কতকগুলা কালো দাগ দেখা গেল। ছয়টার সময় আকাশে বেগ্‌ণী রঙের প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড মেঘ-রাশি; সেই মেঘ-ভারাক্রান্ত আকাশের নীচে নারিকেলবৃক্ষসমাচ্ছন্ন একটি নিম্নভূমি দেখা দিল। যতই আমরা অগ্রসর হইতে লাগিলাম, ততই উচ্চ, সরু বৃক্ষকাণ্ডসকল স্পষ্টরূপে লক্ষিত হইল। তাহারা একটু হেলিয়া সবেগে যেন আকাশ ফুঁড়িয়া উঠিয়াছে, এবং তালজাতীয় বৃক্ষের রীত্যনুসারে শিরোদেশে শাখাপত্র বিস্তার করিয়াছে। মনে হয় যেন, একটি বিস্তৃত অরণ্য সাগর-গর্ভ হইতে হঠাৎ সমুত্থিত হইয়াছে। এখনও উপকূল এক ক্রোশ দূরে, এখনও মাটি দেখা যায় না—কেবলই ঘোর হরিৎ বর্ণ রাশি; তীরভূমির নিকটে গিয়াও আর কিছু দেখা যায় না। কেবলমাত্র বিষুবরেখাপ্রদেশ-সুলভ সেই উদ্দাম সরস উদ্ভিজ্জরাশি বর্ষা-সিঞ্চিত ভূমি হইতে সতেজে উত্থিত হইয়া মুক্ত বায়ুর আলিঙ্গনে স্বকীয় হরিৎ করতল প্রসারিত করিয়া আছে।”

 সেখানকার “ওরিএণ্টাল” নামক হোটেলে যুরোপীয় প্রভু ও দেশীয় ভৃত্যদিগের যেরূপ রকম-সকম গ্রন্থকার দেখিয়াছেন তাহা অতিসুন্দররূপে বর্ণনা করিয়াছেন। “ওরিএণ্টাল হোটেলের বাড়িটি প্রকাণ্ড ও বেশ সুখাবাস্য। হোটেল-স্বামীর আদব্‌-কায়দা খুব দুরস্ত; ভৃত্যদের প্রতি তিনি অল্প কথায় আমাকে যথাস্থানে স্থাপিত করিবার আজ্ঞা প্রচার করিলেন; তাহার সেই আজ্ঞা ভৃত্যেরা নীরবে নতমস্তকে গ্রহণ করিয়া আমাকে একটি সৌধ-ধবল বড় কামরা দেখাইয়া দিল। বেশী আসবাব নাই—কেবল একটিমাত্র মশারি-টাঙ্গানো লোহার