পাতা:ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/১৮

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।

১৮

ভূতের বিচার।

 কর্ম্ম। কিরূপে তুমি উহার ভিতর প্রবিষ্ট হইবে?

 আবে। উহাদিগের দলভুক্ত হইয়া উহাদিগের সহিত ডাকাইতি করিতে হইবে।

 কর্ম্ম। ডাকাইতি না করিলে তুমি কি উহাদিগকে ধরাইতে পারিবে না?

 আবে। না।

 কর্ম্ম। কেন?

 আবে। দলভুক্ত না হইলে উহারা আমার কথায় বিশ্বাস করিবে কেন?

 কর্ম্ম। আচ্ছা, তাহাই হইবে; কিন্তু এক কাজ করিতে হইবে। আমার কথা মত ডাকাইতি করিতে গিয়া যদি কোন গতিকে ধৃত হও, তাহা হইলে যাহাতে আমি তোমাকে বাঁচাইতে পারি, অগ্রে তাহার বিশেষ বন্দোবস্ত করিতে হইবে, পরে ডাকাইতি করিতে তোমাকে অনুমতি দিব। এখন বল দেখি, তুমি যে দলের কথা কহিতেছ, সেই দল এই স্থান হইতে কতদুরে অবস্থিতি করে?

 আবে। তাহারা নানা স্থানে বাস করে, কিন্তু কার্য্য করিবার সময় যে স্থানে সমবেত হয়, সেই স্থান এখান হইতে প্রায় চল্লিশ ক্রোশ দূরে।

 কর্ম্ম। তুমি ততদূর গিয়াছিলে?

 আবে। না যাইলে কার্য্য উদ্ধার করিব কিরূপে?

 কর্ম্ম। ঐ দলের দলপতি কে?

 আবে। দলপতির কথা বলিবেন না, সে বড় ভয়ানক কথা। আমি যে হানিফ খাঁকে ধরাইয়া দিয়াছিলাম, সে মরিয়া ভূত হইয়াছে। ভূত হইয়াও সে আপন কার্য্য পরিত্যাগ করে নাই। সে এখনও ডাকাইত দলের দলপতি। সে দলপতির কার্য্য করে বটে, কিন্তু নিজে কিছুই গ্রহণ করে না। তাহার অংশে যাহা হয়, সে তাহা উড়াইয়া লইয়া গিয়া এক এক গ্রামের এক এক স্থানে ফেলিয়া দেয়, যে পায় সেই লয়, উহাতেই তাহার আমোদ।

 কর্ম্ম। তুমি তাহাকে দেখিয়াছ?

 আবে। দেখিয়াছি।

 কর্ম্ম। সে তোমাকে চিনিতে পারিয়াছিল?

 আবে। খুব পারিয়াছিল।

 কর্ম্ম। তুমি যে তাহাকে ধরাইয়া দিয়াছিলে, তাহার নিমিত্ত সে তোমাকে কিছু বলে নাই?

 আবে। না। আমি যে তাহাকে ধরাইয়া দিয়াছিলাম, তাহা সে জানিতে পারে নাই বা বুঝিতে পারে নাই।

 কর্ম্ম। তাহার চেহারা এখন কিরূপ?

 আবে। পূর্ব্বে যেরূপ ছিল, এখনও ঠিক সেইরূপ আছে, তবে পূর্ব্বের অপেক্ষা সে এখন কিছু কাহিল হইয়াছে। প্রভেদের মধ্যে, তাহার কথা একেবারে খোঁনা হইয়া গিয়াছে; এমন কি, তাহার কথা সহজে বুঝিয়া উঠিতে পারা যায় না।